পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। গত কয়েকদিনে নদীভাঙনে নতুন করে অন্তত ২০টি পরিবার ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে সরকারি রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে। দীর্ঘদিনের ভাঙনে এ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে দেড় শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব হয়েছে। অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র বসতি গড়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা নদীর ঢেউয়ের আঘাতে প্রতিনিয়ত ভেঙে পড়ছে বাহেরচরের নদীর তীর। ভাঙন আতঙ্কে নদীর পাড়ের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। কোনো কোনো পরিবার ইতোমধ্যে ৮ থেকে ১০ বার পর্যন্ত ঘর সরিয়ে নতুন করে বসতি গড়েছে।
অব্যাহত ভাঙনে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ৩২ নম্বর আঙ্গারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও মোল্লা বাড়ি। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে এসব স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে এখানে নদীভাঙন চলছে। আমার এ বয়সে পাঁচ থেকে ছয়বার ঘরবাড়ি অন্যত্র সরানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই গ্রামেও থাকতে পারি কি না, সন্দেহ আছে।

আরেক বাসিন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, এ পর্যন্ত ১০ বার আমার ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়েছে। সর্বশেষ ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। এরপর আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহীন গাজী বলেন, পায়রা নদীর ভয়াল ভাঙনে আমার এলাকাটি এখন বিলুপ্তির পথে। ভাঙন রোধে আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আঙ্গারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জিল্লুর রহমান বলেন, নদীভাঙন বাহেরচর এলাকার মানুষের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। বাহেরচর গ্রামের অস্তিত্ব রক্ষায় দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করা দরকার।
এদিকে, ভাঙন প্রতিরোধ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হবে। তাদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাহেরচরের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/এসএইচএ
