বিজ্ঞাপন

ফ্যামিলি কার্ড নারীর জন্য ‘সেফগার্ড’ : সংস্কৃতিমন্ত্রী

ফ্যামিলি কার্ড নারীর জন্য ‘সেফগার্ড’ : সংস্কৃতিমন্ত্রী

নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত হলে তার সুফল শুধু একজন নারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং পুরো পরিবারই স্বাবলম্বিতার পথে এগিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছে বলেও জানান তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নারী স্বাবলম্বী হলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো পরিবারই স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীর মর্যাদা ও ক্ষমতায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সরকারের এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভালো থাকবে। কৃষকদের কল্যাণে কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে সরকার।

নারীদের ওপর পারিবারিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অনেক ক্ষেত্রে নারী সদস্যরা পুরুষ সদস্যদের দ্বারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও জিম্মি হয়ে থাকেন। যৌতুক কিংবা শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য নানা অজুহাত দেখানো হয়। এ পরিস্থিতিতে ফ্যামিলি কার্ড নারীদের জন্য একটি ‘সেফগার্ড’ হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, পরিশ্রমী নারী যারা আছেন, এই আড়াই হাজার টাকা জমিয়ে একটা পরিবারকে স্বাবলম্বীর দিকে নিয়ে যেতে পারবেন।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলী, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ এবং পুলিশ সুপার মো. রুহুল কবির খান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, জেলার চার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মণ্ডল, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি এবং জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সনি।

এ ছাড়া জেলার পাঁচ থানার অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আফজালুল হক/এসএইচএ