বিজ্ঞাপন

রাশেদ খাঁন

আ. লীগকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণ করতে চায় জামায়াত

আ. লীগকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণ করতে চায় জামায়াত

জামায়াতে ইসলামী নতুন করে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে বিরাজনীতিকরণ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ সদরের এমকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগকে বিএনপি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেনি, জামায়াত আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। জামায়াতের একজন প্রভাবশালী নেতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরী সাহেব বলেছেন, ‘অ্যাজ এ পলিটিক্যাল পার্টি’ আওয়ামী লীগ ফিরে আসলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তার মানে কি আওয়ামী লীগ জামায়াতের নেতাদের এই বক্তব্য শুনে সাহস পেয়েছে? আমি গতকালও বলেছি, আজকেও আবার রিপিট করছি—এই যে রাষ্ট্রকে জামায়াত অশান্ত করছে, এই সুযোগে আওয়ামী লীগ ঝটিকা মিছিল করার সাহস পাচ্ছে।

তিনি বলেন, জামায়াত সরকারকে সহযোগিতা করুক এবং সবাই মিলে একসঙ্গে রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের কাজ করুক। দেখবেন, আওয়ামী লীগের কাউকে মাঠে পাওয়া যাবে না। কিন্তু এই জামায়াত যে সময় লংমার্চ করছে, সে সময় এই লংমার্চের সুযোগে আওয়ামী লীগ আবার ঝটিকা মিছিল করার পাঁয়তারা করছে।

রাশেদ খাঁন বলেন, গুলশানে যারা ঝটিকা মিছিল করেছে, তাদের অনেককেই ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলব, শেখ হাসিনার ফাঁদে পা দিয়েন না। শেখ হাসিনা এই দেশে আর কখনোই ফিরবে না। এমনকি সে মারা গেলে তার লাশটাও বাংলাদেশে আনার মতো সাহস শেখ পরিবারের কারো নেই। যদি শেখ পরিবারের কেউ বাংলাদেশে ফিরে আসে, তারপরে আপনারা মাঠে নামেন। শেখ পরিবারের কেউ বাংলাদেশে না ফিরলে আপনারা মাঠে নামার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি মরা লাশ। এই লাশ ইতোমধ্যে দাফন হয়ে গেছে, পচে-গলে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সুতরাং এখন আওয়ামী লীগকে তাজা করবেন—এই স্বপ্ন যারা দেখছেন, তারা ভুল করছেন। জামায়াত আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে পারে, কিন্তু আওয়ামী লীগকে এ দেশের সাধারণ মানুষ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেনি। সুতরাং ২৪-এর যে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, সেই বিচার বাংলার মাটিতে হবেই হবে।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, জামায়াত যদি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করে, আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে মাঠে নামার চেষ্টা করে, আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে—অবশ্যই বাংলাদেশের জনগণ জামায়াত এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন, জামায়াত ইসলামী এমন একটি দল, শত্রুর সঙ্গেও হাত মেলাতে দ্বিধাবোধ করে না। অতীতে রেকর্ড রয়েছে। সেই একাত্তরের সময় জনগণের পাশে থাকা দরকার ছিল না—আমরা দেখেছি। ’৮৬-এর নির্বাচনে তারা এরশাদকে আরও বেশি সময় ক্ষমতায় রাখার জন্য সেই নির্বাচনে চলে গিয়েছে। তারা ৯৬-তে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। এমনকি সেই ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের যে সেনাশাসন, সেই সময়ও জামায়াত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং বিরাজনীতিকরণ করার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে নতুনভাবে জামায়াতে ইসলামী বিরাজনীতিকরণ করতে চায় এবং সেটা আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু এই বাংলাদেশে যে রাজনীতি শুরু হয়েছে, এই রাজনীতির অগ্রযাত্রা জামায়াত কোনোভাবেই থামাতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী—তিনি অত্যন্ত জনবান্ধব। এই যে স্যারের সংকটের কথা বললেন, দেখেন, অনেক সময় কৃত্রিম সংকট করে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল আজাদ পান্নু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সম্রাট হোসেন/এসএইচএ