সাভারের আশুলিয়ায় তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং শ্রমিক-নেতাদের নামে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ‘ক্লথিং কার্নিভালস লিমিটেড’ নামে এক পোশাক কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীরা। টানা ৯ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চললেও মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সমাধান মেলেনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়ার বুড়িবাজার এলাকায় অবস্থিত ওই পোশাক কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অন্তত শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কারখানা ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনরত শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত আছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানাটির দুই শতাধিক শ্রমিক ও কর্মচারীর গত তিন মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষ বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক অনটন ও মানবিক বিপর্যয়ে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, পাওনা আদায় এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় করা মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে তারা ইতোমধ্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শ্রম মন্ত্রণালয়, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এবং সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। তবে প্রশাসনিক কোনো কার্যকর সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা কারখানার প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রাখা কারখানা কর্তৃপক্ষের চরম অন্যায়। দ্রুত বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে সংকটের সমাধান না করা পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের এই ন্যায্য অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় আশুলিয়া শিল্প-১ পুলিশের সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া ঢাকা পোস্টকে জানান, কারখানাটি মূলত সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ পরিচালনা করত। শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকায় তারা সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে। সন্ধ্যার পরও তারা কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। বিষয়টি সমাধানের লক্ষে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
লোটন আচার্য্য/এএমকে
