সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট বাজারের পালপাড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা বেড়েছে। দিন-রাত কাজ করে প্রতিমার গঠন শেষ করছেন কারিগররা। এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরির স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। চালু করা হয়েছে হটলাইনও।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পালপাড়া পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু। এ সময় তিনি প্রতিমা তৈরির কারিগরদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি হটলাইন নম্বরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে কামারখন্দ থানা পুলিশকে প্রতিমা তৈরির স্থানসহ আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী, কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল আলিম খান, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শম্ভু নাথ দাশ, ভদ্রঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মির্জা আব্দুস সামাদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরিতে মাটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন চলছে প্রতিমার শাড়ির ডিজাইন, মাথা ও অন্যান্য অংশের গঠন তৈরির কাজ। সব প্রতিমার গঠন শেষ হলে শুরু হবে রং-তুলির কাজ।
কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূজার প্রায় ২০ দিন আগে প্রতিমায় রং-তুলির কাজ শুরু করা হবে। এ বছর ভদ্রঘাট পালপাড়ায় ২১৬টি প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। আকার ও কাজের ধরনভেদে সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কারিগরদের পাশাপাশি বগুড়া, পাবনা, রংপুর ও নাটোর জেলার কারিগররাও এখানে এসে প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত হয়েছেন। তৈরি করা প্রতিমাগুলো টাঙ্গাইল, নাটোর, বগুড়া ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা নিয়ে যাবেন।
কারিগরদের হিসাব অনুযায়ী, ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া একটি প্রতিমা তৈরিতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিমা তৈরির উপকরণ ও শ্রমের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তাদের দাবি, সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় লাভ বাড়েনি; বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশের মতো লাভ থাকে।
প্রতিমা তৈরির কারিগর বলরাম পাল ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘একেকটি প্রতিমার একেক দাম। আমাদের এলাকায় ২১৬টি প্রতিমা তৈরি হচ্ছে। দামের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তাই কত টাকার প্রতিমা বিক্রি হবে, সেটি বিক্রি শেষ না হওয়ার আগে বলা যাচ্ছে না।’
নিরাপত্তার বিষয়ে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরির স্থানগুলোতেও পুলিশের নজরদারি রয়েছে। পুলিশ সুপার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
মো. নাজমুল হাসান/এসএইচএ
