কারও হাতে ভরসার লাঠি, কারও কোলে অসুস্থ সন্তান, আবার কারও চোখে চিকিৎসা পাওয়ার আকুলতা। সকাল থেকে এমন কয়েকশ মানুষ ভিড় করেছিলেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সীমান্তবর্তী কয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে।
অসুস্থ হলেও অভাব-অনটনে যাদের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়ার সামর্থ্য ছিল না, বছরের পর বছর রোগ-বালাই নীরবে থাকতে হয়েছে— সেইসব প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (২০ বিজিবি)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী ২০ বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় কয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ মানবিক চিকিৎসা শিবিরের আয়োজন করা হয়।
বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান উপস্থিত থেকে এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। সেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সীমান্তের প্রান্তিক জনপদের পাঁচ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আন্তরিক পরামর্শ এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় মানসম্মত ওষুধ বিতরণ করা হয়। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষেরা চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন।
চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ হেবাতুল্লাহ বলেন, শরীরে বাত-ব্যথা, আর দুর্বল লাগে। বড় ডাক্তার দেখানো ও ওষুধ কেনার টাকা জোটানো আমাদের মতো গরিবের পক্ষে সম্ভব হয় না। বিজিবির ডাক্তাররা ভালো করে দেখে ফ্রিতে ওষুধ দিলেন।
কয়া গ্রামের বাসিন্দা আনসার আলী বলেন, আমরা সীমান্ত এলাকার মানুষ। শরীরে তো কিছু না কিছু রোগ লেগেই থাকে। সহজে ডাক্তারের কাছে যেতে পারি না। আজ বাড়ির কাছেই ডাক্তার বসেছে। তাই এখানে এসে ডাক্তার দেখালাম। বিনা পয়সায় ডাক্তার দেখলো এবং ওষুধ দিয়েছে।
লাকী আক্তার নামে এক নারী বলেন, আমাদের এখানে ডাক্তার এসেছে, আমরা এলাকার গরিব মানুষেরা এসেছি চিকিৎসা নিতে। এতে খুব উপকার হচ্ছে। আমরা অসুস্থ হলে মেডিকেলে যেতে পারি না, মেডিকেল অনেক দূরে।
দুই বছরের মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন বাবা সুমন রানা। তিনি বলেন, বাচ্চার খাবারে রুচি নেই, খাবার খায় না। এখানে এসে ডাক্তার দেখালাম। পরামর্শ দিয়ে ওষুধ দিয়েছে। এখান থেকে জেলা শহরে যেতে কষ্ট হতো, খরচ হতো। আমি দিনমজুর মানুষ। বিজিবির উদ্যোগে করা এই ক্যাম্পে এসে সুবিধা হয়েছে।
দিনাজপুর সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি সব সময় সীমান্তবর্তী জনসাধারণের কল্যাণে কাজ করে আসছে। সীমান্তবর্তী জনপদের প্রতিটি অসহায় মানুষের সুখ-দুঃখ, সংকট ও মানবিক দুর্যোগে পাশে দাঁড়াতে বিজিবি অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই লক্ষে আজ কয়া এলাকার ৫ শতাধিক দুস্থ মানুষকে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই মানবিক ধারা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী, দিনাজপুর সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত এসএমও ক্যাপ্টেন হোসনে আরা আক্তার, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন করিমসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চম্পক কুমার/আরএআর
