ঢাকা আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহনের বাসের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিবালয় উপজেলার বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডে এলাকা প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
জানা যায়, উপজেলার বরঙ্গাইল এলাকায় ঢাকা আরিচা মহাসড়কের পাশে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল নিয়ে তাদের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন এবং পরিবহনটির রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানান।
খোন্দকার তুহিন হোসেন নামে এক আন্দোলনকারী বলেন, সেলফি পরিবহনের বাস নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বেপরোয়া ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস চালানো, অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিংয়ের কারণে সেলফি পরিবহনের বাসে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। কেউ কেউ মাদক সেবন করে গাড়ি চালান। এতে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট একই দাবিতে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুখুরিয়া এলাকায় ঢাকা আরিচা মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করেন আন্দোলনকারীরা। ৩১ আগস্ট একই দাবিতে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।
এতে উল্লেখ করা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা স্বাভাবিক ঘটনা নয়, প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, পরিবারের স্বপ্ন ও রাষ্ট্রের সম্পদ। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহনে সংঘটিত বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা ও জনমনে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামসহ থানার পুলিশ ও বরঙ্গাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটি সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং পূর্বেও একাধিকবার দুর্ঘটনাকবলিত থাকায় সেলফি পরিবহনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। তারা ১০ দিনের সময় বেধে দিয়েছেন, যদি সমাধান না পাযন তাহলে তারা আবার কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২২ সালের ১৩ জুলাই ঘিওরের তরা এলাকায় সেলফি পরিবহনের বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিবহনটির দুটি বাস ভাঙচুর ও একটিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সে সময় সেলফি পরিবহনের বাস সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কয়েকদিন পর আবার তা চালু করা হয়।
সাইফুল ইসলাম/এএমকে
