লক্ষ্মীপুরে কমলনগরে মো. রোহান নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশী জান্নাত বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন নিহত রোহানের মা রীনা আক্তার ও বাবা আব্বাস হোসেন। শিশুটিকে ‘গলাটিপে শ্বাসরোধ’ করে হত্যার পর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হয় বলে দাবি তাদের।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরে বিচারের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রীনা ও তার স্বামী আব্বাস এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ করে আব্বাস বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশী জান্নাত আমার ছেলেকে গলাটিপে হত্যা করেছে। পরে সে লাশটি পানিভর্তি একটি গর্তে লুকানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়রা দেখে ফেলায় ব্যর্থ হয়ে তিনি প্রচার করেন আমার ছেলে পানিতে ডুবে মারা যায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তারা আমাকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে এটি ধামাচাপ দিতে চেয়েছেন। এছাড়া বাড়বাবাড়ি না করতেও হুমকি দিয়েছে। এগুলো ভয়েস রেকর্ডিং ও সাক্ষীদের ভিডিও বক্তব্য নিয়ে থানায় গেলেও আমার মামলা নেয়নি পুলিশ।
এদিকে রোহানকে হত্যার করার অভিযোগে আব্বাস ১ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কমলনগর আদালতে এজাহার দায়ের করেছেন। এতে জান্নাত বেগম ও তার স্বামী মো. জামাল, ছেলে নিহাদ ও জিহাদকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলা সূত্র জানায়, ১৯ জুলাই বিকেলে জান্নাতের ছেলে নিহাদ খেলার কথা বলে ঘর থেকে আব্বাসের ছেলে রোহানকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রায় ২ ঘণ্টা পর প্রতিবেশী জান্নাত শিশু রোহানের মরদেহ নিয়ে আসে। শিশুটি পানিতে পড়ে মারা গেছে বলে প্রচার করা হয়। ছেলের মৃত্যুতে তার মা রিনা অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তার মরদেহ দাফন করা হয়। কিন্তু রোহান পানিতে ডুবে মারা যায়নি। তাকে জান্নাত গলাটিপে হত্যা করেছে। প্রতিবেশী নারীরা দেখে ফেলায় জান্নাত মরদেহ লুকাতে পারেননি। বাদী আব্বাস কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালু মাঝির ছেলে ও পেশায় জেলে।
বাদীর আইনজীবী নাইম উদ্দিন বলেন, আদালতে হত্যার অভিযোগে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এজাহারটি বিচারক আমলে নিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। খুব শিগগিরই নির্দেশনার কপি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জান্নাত বেগম ও তার স্বামী জামালের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, ঘটনাটি তার জানা নেই। এর আগে কেউ তাকে এ বিষয়টি জানায়নি।
হাসান মাহমুদ শাকিল/এসএইচএ
