নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ২২ লাখ টাকার একটি ভবন মাত্র এক লাখ টাকায় ভেঙে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি বিধি-বিধান ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ভবন বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্তের আদেশে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে নির্মিত বিদ্যালয়ের সরকারি ভবন অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি বিধি-বিধান বা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। প্রধান শিক্ষক লিখিত ও মৌখিকভাবে জানায় ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় কোনো দলিল তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ভাঙা ভবনের বিভিন্ন উপকরণ প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করা হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগার বা সংশ্লিষ্ট কোনো খাতে জমা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য যে তারিখে রেজুলেশনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে ওই তারিখটি ছিল সরকারি ছুটির দিন।
জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে নারী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে ধানুড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একতলা দুটি ভবন ও দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি) এবং জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে। ভবনটি ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হয়।
কিন্তু নির্মাণের মাত্র তিন বছর পর চলতি বছরের জুন-জুলাই মাসে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। একই সময়ে বিদ্যালয়ের একটি পুরোনো আধাপাকা ভবনও ভাঙা হয়। ব্যবহার উপযোগী একটি ভবন অল্প সময়ের মধ্যে অপসারণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগের নজরে আসে। গত ৩১ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক আদেশে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীরের বিরুদ্ধে এ আদেশ দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রনি আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন অনুমোদন ছাড়া ভেঙে বিক্রির অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
আশিকুর রহমান/এসএইচএ
