গ্রামবাংলার আবহমান ঐতিহ্য ধরে রাখতে রাজবাড়ীর কালুখালীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিশাল আকৃতির নৌকার অংশগ্রহণে আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নৌকাবাইচ দেখতে পদ্মার তীরে ভিড় করেছেন হাজারো দর্শনার্থী।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে শুরু হয় এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টান, নৌকার তীব্র গতি আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের আমেজ।
আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মোট ৮টি নৌকা অংশ নিয়েছে। প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় চারটি বাইচ।

উদ্বোধনী বাইচে উলাট একতা এক্সপ্রেসকে হারিয়ে জয় পায় ‘নিউ শাপলা’। দ্বিতীয় বাইচে চর গোবিন্দপুরের নৌকাকে পরাজিত করে জয় পায় ‘নিউজ জনতার সংগ্রাম’।
তৃতীয় বাইচে দুলদুল এক্সপ্রেসকে হারিয়ে জয় পায় ‘খয়রানা একতা চ্যালেঞ্জার’। দিনের চতুর্থ ও শেষ বাইচে কুষ্টিয়ার লালনকে হারিয়ে জয় পায় পাবনার সুজানগরের ‘রায় শিমুল একতা এক্সপ্রেস’।
নৌকাবাইচ ঘিরে নদীর দুই পাড়ে সকাল থেকেই বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। কেউ নৌকায়, আবার কেউ নদীর তীরে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মহেন্দ্রপুর পদ্মার তীর হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
নৌকাবাইচের পাশাপাশি বসেছে গ্রামীণ মেলা। মেলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্য, খাবার ও গ্রামীণ বিনোদনের আয়োজন রয়েছে।

স্থানীয় দর্শনার্থী রাজিব আহসান বলেন, ছোটবেলা থেকেই নৌকাবাইচ দেখে আসছি। তবে আগের মতো এখন আর নিয়মিত নৌকাবাইচ হয় না। দীর্ঘদিন পর এমন বড় আয়োজন দেখতে পেরে খুব ভালো লাগছে। পরিবার নিয়ে এসে আনন্দ উপভোগ করছি।
খোকসা থেকে আসা দর্শনার্থী রুবেল হোসেন বলেন, নৌকাবাইচ দেখতে অনেক দূর থেকে এসেছি। নদীতে নৌকার প্রতিযোগিতা আর মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হচ্ছে পুরোনো দিনের গ্রামীণ উৎসব ফিরে এসেছে। এমন আয়োজন প্রতিবছর হওয়া দরকার।
দর্শনার্থী রিয়াজুর রহমান বলেন, পদ্মার পাড়ে হাজারো মানুষের উপস্থিতি আর নৌকার প্রতিযোগিতা সত্যিই দেখার মতো। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা খুব আনন্দ করছে। আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি করা উচিত।
আয়োজকরা বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি গ্রামবাংলার আবহমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হারিয়ে যেতে বসা এ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ও বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আরও দুই দিন নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ দুই দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নৌকার অংশগ্রহণে জমজমাট প্রতিযোগিতা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এসএইচএ
