বিজ্ঞাপন

ফেনী হাসপাতাল পরিদর্শনে চার এমপি, সংকটের কথা শুনে দিলেন সমাধানের আশ্বাস

ফেনী হাসপাতাল পরিদর্শনে চার এমপি, সংকটের কথা শুনে দিলেন সমাধানের আশ্বাস

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কথা শুনেছেন চার সংসদ সদস্য। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তারা চিকিৎসক, নার্স ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে হাসপাতালের সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন তারা।

হাসপাতাল পরিদর্শনে ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা  অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। পরিদর্শনকালে চিকিৎসক, নার্স ও সাংবাদিকরা হাসপাতালের জনবল, যন্ত্রপাতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যার কথা তাদের কাছে তুলে ধরেন।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে জনবল সংকট প্রসঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, একটি ২৫০ শয্যার হাসপাতালে যদি ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকে, তাহলে সেই অনুযায়ী জনবল ও অন্যান্য সব ধরনের মেশিনারি সাপোর্টও থাকা প্রয়োজন। এখানে জনবল ও অন্যান্য সাপোর্টিং বিষয়ের অভাব রয়েছে। আমাদের প্রথম কাজ হলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে এগুলোর সমাধান করা।

হাসপাতালে জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ২৫০ শয্যার জন্য সরকারি যে জনবল কাঠামো রয়েছে, সেখানে কতজন কর্মরত আছেন এবং কতজনের ঘাটতি রয়েছে—এসব তথ্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে চাওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পাওয়ার পর ফেনীর চার সংসদ সদস্য একত্র হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলব।

ফেনীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবির বিষয়ে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আমাদের দাবি হলো মেডিকেল কলেজ। মেডিকেল কলেজের সঙ্গে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল সম্পৃক্ত থাকে। তবে এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে। সরকার এ সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নিলেও এটি বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। আমাদের এই মুহূর্তে যেটা দরকার, সেটা হলো ফেনীর মানুষ যেন যথাযথ চিকিৎসাসেবা পান। এ জন্য চিকিৎসক ও নার্সদের যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, তেমনি পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ ও জনবলও প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ফেনীর চারজন এমপি নিয়মিত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলব এবং এ নিয়ে কাজ করব। স্বাস্থ্যসেবার মান যত দ্রুত সম্ভব উন্নত করতে হবে।

এ সময় মন্ত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোঁজখবর নেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বরফ গলার হার বাড়লে বাংলাদেশের পানির উচ্চতা বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি লবণাক্ততার ঝুঁকি বাড়বে। তিনি বলেন, লস অ্যান্ড ড্যামেজের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এবারের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে (কপ) আমরা এ বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ নেব।

বক্তব্যে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন বলেন, ফেনী জেনারেল হাসপাতালকে ৮০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার সময়ই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমরা বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি এটি বাস্তবায়নের কথা বলেছেন।

হাসপাতালে কর্তব্যরতদের উদ্দেশে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, এ হাসপাতালে নার্স ও চিকিৎসকদের রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ পুরোনো। আমাদের স্পষ্ট কথা—মানুষ এখানে সেবা নিতে আসেন। আপনারা সেবা দিতে না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন, অন্য লোক এসে দায়িত্ব নেবে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলে আসছে। এখন একটি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। সেজন্য আপনাদেরও আমাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসেন দুলালসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

তারেক চৌধুরী/এএমকে

বিজ্ঞাপন