বিজ্ঞাপন

মধুমতি সেতুর সংযোগ সড়কে ঝুঁকি, ৪ স্থানে ধস-ভাঙন

মধুমতি সেতুর সংযোগ সড়কে ঝুঁকি, ৪ স্থানে ধস-ভাঙন

সম্প্রতি সংস্কারকাজ শেষ হলেও এরই মধ্যে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরে গুরুত্বপূর্ণ মধুমতি সেতুর পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের জাঙ্গালিয়া অংশে অন্তত চারটি স্থানে ধস ও ভাঙন দেখা দিয়েছে।

কোথাও সড়কের পাশের মাটি সরে গেছে, আবার কোথাও পিচের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে সড়কের একাংশ শূন্যে ঝুলে আছে। এতে ব্যস্ততম এই সড়কে প্রতিদিন চলাচলকারী অসংখ্য যানবাহন ও পথচারীর মধ্যে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির সংস্কারকাজ সম্প্রতি শেষ হলেও সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন দেখা দেওয়া চারটি স্থানের মধ্যে একটির অবস্থা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয়রা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর মধুমতি সেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে ঢাকা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর সড়ক যোগাযোগ বহুগুণ বেড়েছে। ফলে প্রতিদিনই ব্যস্ত থাকে এই সংযোগ সড়ক।

সড়কটি দিয়ে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি সবজিবাহী ট্রাক-পিকআপসহ মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জের অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একাধিক স্থানে ধস ও ভাঙন দেখা দেওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ধীরে ধীরে সড়কের আরও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে একপর্যায়ে ঢাকার সঙ্গে মহম্মদপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে সম্প্রতি সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। তবে সড়কের পাশে পর্যাপ্ত গাইডওয়াল বা প্যালাসাইড না থাকায় সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানির প্রবাহ নেমে সড়কের দুই পাশের মাটি সরে গেছে। এতে বালু, খোয়া ও পিচ-পাথরের স্তরও ভেঙে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কয়েকটি অংশের পাশের মাটি ধসে নিচে নেমে গেছে। কোথাও সড়কের কিনারা ভেঙে সরু হয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো স্থানে পিচের নিচের মাটি সরে গিয়ে সড়কের অংশবিশেষ শূন্যে ঝুলে রয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এসব স্থান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খুরশিদ আলম সোহাগ বলেন, ‘কিছুদিন আগেই লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সঠিক তদারকি ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় অল্প দিনের মধ্যেই একাধিক স্থানে ভয়াবহ ভাঙন ধরেছে। এখন প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও মানুষ চলাচল করছে। চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত টেকসই সংস্কার করা জরুরি।’

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডু বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শনও করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে যেসব স্থান দিয়ে সড়কের পানি প্রবাহিত হয়েছে, সেসব জায়গায় ধস নেমেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ ও টেকসই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে।’

তাছিন জামান/বিআরইউ

বিজ্ঞাপন