ফেনীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত দুই সপ্তাহে ২৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ফেনী মডেল থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন ঘটনায় ৪০টির বেশি মামলা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মলম পার্টির সদস্য, মাদক কারবারি ও মাদকসেবী, চুরি-ডাকাত চক্রের সদস্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নতুন করে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে হানি ট্র্যাপ চক্রের দুই নারী সদস্য, গণধর্ষণ মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে হানি ট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়া চক্রের সক্রিয় সদস্য খালেদা আক্তার রুনা প্রকাশ ফারজানা (৪০) ও হাজেরা আক্তার জেবুকে (৩৫) চাড়িপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া গণধর্ষণ মামলার আসামি আবদুর রাজ্জাক (৬২) এবং সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত দলের সদস্য ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি দিলবাহার ঝর্নাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ১২ সেপ্টেম্বরের অভিযানে ২১ জন, ৯ সেপ্টেম্বরের অভিযানে ১৬ জন এবং ৮ সেপ্টেম্বরের অভিযানেও ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বরের অভিযানে শহরের স্টারলাইন বাস কাউন্টার এলাকা থেকে মলম পার্টির সদস্য লিটন মিয়া প্রকাশ সুমনকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার দক্ষিণ এলাইচ ডোমবাড়িয়া এলাকার সুরজ মিয়ার ছেলে।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, মাদকসেবী ও মাদক কারবারি এবং চোর-ডাকাত চক্রের সদস্যসহ মোট ২৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় করা বিভিন্ন মামলার আসামি। এই সময়ে ৪০টি বেশি মামলা হয়েছে। মাদক, চুরি-ডাকাতিসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তারেক চৌধুরী/এসএইচএ
