বিজ্ঞাপন

চিরকুটে পাওনা টাকার অনুরোধ

সাংবাদিক পুলকের মৃত্যুর তিনদিন পর পরিবার পেল ১০ লাখ টাকা

সাংবাদিক পুলকের মৃত্যুর তিনদিন পর পরিবার পেল ১০ লাখ টাকা

মৃত্যুর আগে চিরকুটে সমকালের কাছে পাওনা টাকার কথা লিখে গিয়েছিলেন বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি। তার সেই অনুরোধের তিনদিন পর পরিবারের ব্যাংক হিসাবে জমা হলো ১০ লাখ টাকা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পুলক চ্যাটার্জির স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা চ্যাটার্জির ব্যাংক হিসাবে বকেয়া পাওনা বাবদ এই অর্থ জমা দিয়েছে দৈনিক সমকাল কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সমকালের বর্তমান বরিশাল ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরী।

পুলক চ্যাটার্জি ছিলেন সমকালের বরিশালের সাবেক ব্যুরো প্রধান। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে বরিশালের গণমাধ্যম অঙ্গনে পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। এক সময় বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর প্যারারা রোডে সমকাল কার্যালয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।

পরিবার ও দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের মে মাসে সমকাল থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর বেকার ছিলেন পুলক। চাকরি হারানোর পর তিনি কঠিন সময় পার করছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

মৃত্যুর আগে ৫টি চিরকুট লিখে যান পুলক। সেগুলোর একটিতে দীর্ঘদিনের সহকর্মী সুমন চৌধুরীর উদ্দেশে সমকাল কার্যালয়ে গচ্ছিত থাকা তার পাওনা টাকা আদায় করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুরোধের তিনদিন পরই তার পরিবারের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছাল ১০ লাখ টাকা।

স্বজনেরা জানান, পুলকের রেখে যাওয়া চিরকুটে স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা ও একমাত্র মেয়ে প্রকৃতির কথাও ছিল। পরিবারের প্রতি তার উদ্বেগ ও ভালোবাসার বিষয়টি সেসব লেখায় উঠে এসেছে বলে জানান তারা।

পুলকের ছোট ভাই দীপক চ্যাটার্জিকেও স্ত্রী ও সন্তানকে আগলে রাখার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন পুলক। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন পরিচিত ও সক্রিয় একজন সংবাদকর্মী। তার মৃত্যুতে বরিশালের সাংবাদিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে। তবে উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলক নেই। কিন্তু মৃত্যুর পরও তার পরিবারের একটি প্রয়োজনের কথা পৌঁছেছে সংশ্লিষ্টদের কাছে। তিন দিন পর সমকালের সেই পাওনা অর্থ এখন স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা ও মেয়ে প্রকৃতির হাতে।

আরিফ হোসেন/এসএইচএ