বিজ্ঞাপন

পঞ্চগড়ে দুই যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

পঞ্চগড়ে দুই যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দুই যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে শহরের সিনেমাহল মার্কেট ও বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসব ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত দুজন হলেন- পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম ইরান ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। তারা দুজনই পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, গতকাল রাতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকেরা। পরে তারা শহরের সিনেমাহল মার্কেটে চা খেতে যান। সেখানে নওশাদ জমিরের সমর্থকদের সঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আরিফুল ইসলাম ইরানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দলীয় নেতা-কর্মীরা আরও দাবি করেন, এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইরানের পেটে আঘাত করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে হারুন অর রশিদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তার ভাষ্য, সেখানে অপর পক্ষের নেতা-কর্মীরা তাকে মারধর করেন এবং তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। পরে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, আরিফুল ইসলাম ইরান নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার পেটের নিচের দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের টহল চলছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের টহলও চলছে।

এর আগে গত রোববার সকালে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উপস্থিতিতে মতবিনিময় সভায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়।

এরই জেরে রোববার রাতে পঞ্চগড় শহরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। ওই ঘটনার পরদিনই দুই নেতার ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

নুর হাসান/এসএইচএ