রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গেল নয় দিনে হাসপাতালে ১৬৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩২ জন। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারী ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গেল নয়দিনে চারজনের মৃত্যু হলো হাসপাতালটিতে।
রামেক হাসপাতালের দৈনিক ডেঙ্গু আপডেট অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ৬৫ জন। ৮ সেপ্টেম্বর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ জনে। ৯ সেপ্টেম্বর ৬৯ জন এবং ১০ সেপ্টেম্বর ৬৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১১ সেপ্টেম্বরও রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৪ জন। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ জনে। ১৩ সেপ্টেম্বর তা আরও বেড়ে ৮০ জন, ১৪ সেপ্টেম্বর ৮২ জন এবং সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর ৯৫ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ৭ সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে ১৭ জন, যা প্রায় ২৬ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি।
দৈনিক হিসাব অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর ১৭ জন, ৮ সেপ্টেম্বর ২৩ জন, ৯ সেপ্টেম্বর ২০ জন, ১০ সেপ্টেম্বর ২০ জন, ১১ সেপ্টেম্বর ১৪ জন, ১২ সেপ্টেম্বর ১২ জন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২১ জন, ১৪ সেপ্টেম্বর ২১ জন, এবং ১৫ সেপ্টেম্বর ১৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে নয় দিনে নতুন ভর্তি হয়েছেন ১৬৫ জন।
অন্যদিকে, এই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩২ জন। এরমধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর ১৮ জন, ৮ সেপ্টেম্বর ২০ জন, ৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন, ১০ সেপ্টেম্বর ২৪ জন, ১১ সেপ্টেম্বর ১৪ জন, ১২ সেপ্টেম্বর ২ জন, ১৩ সেপ্টেম্বর ১৫ জন, ১৪ সেপ্টেম্বর ১৮ জন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছে ৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। একই সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসমা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালুবাগান এলাকার বাসিন্দা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আসমা খাতুনকে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন (মঙ্গলবার) সকালে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের তথ্যমতে, ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে তার মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ইমরুল কায়েস হৃদয় (২৬) পাবনার বেড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং হাসপাতালের দেওয়া তথ্যে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু দেখানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম।
অন্যদিকে নাটোরের বনপাড়ার ২২ বছর বয়সী ছাত্র জিত সরকার ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের ১০ সেপ্টেম্বরের তথ্যে তার মৃত্যুর সময় ৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ২০ মিনিট এবং মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম উল্লেখ করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের ২৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী হৃদয়। তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ভোর ৪টা ১০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণও ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম। ১৪ সেপ্টেম্বর বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ৮২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১ জন ভর্তি হয়েছেন, বিপরীতে ১৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালে মুখপাত্র শেখ শামিম আহমেদ বলেন, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১৭ জন। তিনজন ছাড়পত্র পেলেও বর্তমানে ডেঙ্গুতে চিকিৎসাধীন ভর্তি রোগী ৯৫জন রোগী।
শাহিনুল আশিক/এসএইচএ
