পাবনায় নিখোঁজের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও ১০ বছরের শিশু মোছা. কামরুন্নাহার কলির সন্ধান মেলেনি। তাকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে নিখোঁজ শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।
নিখোঁজ কামরুন্নাহার কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কলুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল প্রামানিকের মেয়ে।
জানা গেছে, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে যায় সে। এরপর সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কলির পরিহিত স্যান্ডেল পাওয়া যায়। তবে এরপর থেকে শিশুটির আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় কলির বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম। তবে নিখোঁজের সাত দিন অতিবাহিত হলেও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
মানববন্ধনে দোগাছী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আলম বলেন, একটি ১০ বছরের শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তার সন্ধান না পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
নিখোঁজ কলির চাচা মো. আল-আমিন পারভেজ বলেন, কলি কোথায় আছে, কীভাবে নিখোঁজ হলো—এ বিষয়ে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। তা না হলে আমরা আন্দোলন কঠোর করতে বাধ্য হবো।
মানববন্ধনে অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান , মো. আল আমিন পারভেজ, ইমদাদুল হক টোকন, সুলতান মাহমুদ, আলী আশরাফ, রকি মোল্লাসহ এলাকাবাসী এবং নিখোঁজ কলির সহপাঠী ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরএআর
