বিজ্ঞাপন

হাতকড়াসহ আ. লীগ নেতা পালানোর ঘটনায় মামলা, ওসি ক্লোজড

হাতকড়াসহ আ. লীগ নেতা পালানোর ঘটনায় মামলা, ওসি ক্লোজড

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা রেনু মিয়া পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরাফিন মিয়া বাদী হয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলাটি করেন।

এতে রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া, পুলিশের কাজে বাধা এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

একই ঘটনায় কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিনকে শোকজ করার পাশাপাশি প্রশাসনিক কারণে ক্লোজড করা হয়েছে।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় করা একটি মামলার আসামি রেনু মিয়া। তিনি উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ওই এলাকার মৃত ইল্লাল মিয়ার ছেলে।

মামলা হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর তার দুই হাতে হাতকড়া পরানো হয়। এ সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা পুলিশকে ঘেরাও করে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে রেনু মিয়াকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেন। এতে কুলিয়ারচর থানার এসআই শরাফিন মিয়া, কনস্টেবল বাবলু মিয়া ও কনস্টেবল সোহেল রানা আহত হন। পরে তারা কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

পরে রেনু মিয়াকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। একাধিক দল নিয়ে অভিযান চালানোর পর রাত ১০টার দিকে পালানোর প্রায় সাড়ে ৮ঘণ্টা পর মাধবদী এলাকা থেকেই তাকে হাতকড়াসহ পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে রেনু মিয়াকে আটকের পর তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ সাত নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের মধ্যে মোছা. ইতি আক্তার, মোছা. সাদিয়া, মোছা. আকলিমা আক্তার ও রত্নাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। অন্য তিন নারীর বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কুলিয়ারচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোবারক হোসেন মামলার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনিক কারণে কুলিয়ারচর থানার ওসিকে ক্লোজড করা হয়েছে। অন্য কোনো কারণ নেই।

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়/এএমকে

বিজ্ঞাপন