সাগরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ

Dhaka Post Desk

উপজেলা প্রতিনিধি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) 

১৪ আগস্ট ২০২১, ০২:৫০ পিএম


অডিও শুনুন

বঙ্গোপসাগরে অবশেষে দেখা মিলছে রুপালি ইলিশের। ইলিশ বোঝাই ট্রলার সমুদ্র থেকে ঘাটে ফিরে আসায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। এ খবরে হতাশা কাটতে শুরু করেছে জেলেপল্লীতে।

মহিপুর মৎস্য বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত দুদিনে বেশ কিছু ইলিশ বোঝাই ট্রলার ঘাটে ফিরেছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রামের মহেশখালী এলাকার সাদেক মিয়ার এফবি আল্লাহর দান ট্রলার আট হাজার পিস ইলিশ (বড় সাইজের) বিক্রি করেছে ১৩ লাখ টাকায়। আলীপুর মৎস্য বন্দরের সোবাহান খলিফার মালিকানাধীন ট্রলার বিক্রি করেছে ২০ লাখ টাকা। 

মোস্তফা খলিফার মালিকানাধীন এফবি জাবের বিক্রি করেছে ১৫ লাখ টাকা। আহসানের মালিকানাধীন এফবি ঝিলিক বিক্রি করেছে ১৮ লাখ টাকা। মনি ফিসের মালিকানাধীন এফবি মনি বিক্রি করেছে ৩০ লাখ টাকা। মহিপুর মৎস্যবন্দরের ফজলু গাজীর মালিকানাধীন এফবি ফয়সাল বিক্রি করেছে ১৫ লাখ টাকা। ডক আনোয়ারের মাছ ধরা ট্রলার বিক্রি করেছে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মো. মনিরুল ইসলামের মালিকানাধীন কক্সবাজার ফিসের এফবি আল্লাহর দান বিক্রি করেছে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

বন্দর সূত্রে আরও জানা যায়, বর্তমানে প্রতি মণ বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ হাজার টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ২৪-২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া ছোট সাইজের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার টাকায়।

আলিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আনছার উদ্দীন মোল্লা বলেন, সমুদ্র থেকে দু’এক দিনে বন্দরে ইলিশ আসতে শুরু করেছে। তবে তাও আশানুরূপ নয়। সমুদ্র থেকে ১০০ ট্রলার ঘাটে ফিরলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ বিক্রি করেছে ৮-১০টি ট্রলার। তবে ৯০টি ট্রলারের সমুদ্র যাত্রার বাজার খরচ উঠেনি মাছ বিক্রি করে। 

মহিপুর মৎস্য বন্দরের কক্সবাজার ফিসের মালিক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গভীর সমুদ্র থেকে ফেরা চট্টগ্রাম এলাকার কিছু ট্রলার কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পেয়েছে। স্থানীয় জেলেরা এখনো ইলিশ পায়নি। তবে সমুদ্রে ইলিশের দেখা মিলেছে- এটাই খুশির খবর।

বরিশাল মৎস্য অধিদফতরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্টের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পৃথিবীর সকল প্রাণীর জৈবিক ক্রিয়া-প্রক্রিয়া, প্রজনন কর্মকাণ্ডের সময়কাল পরিবর্তিত হচ্ছে। ইলিশও এর বাইরে নয়। বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ইলিশের প্রজনন সময়েও কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইলিশ সাধারণত সমুদ্রের গভীর অংশে চলাচল করে। প্রজনন সময়ে এরা পানির গভীর স্তর থেকে ওপরের অংশে চলে আসতে শুরু করে। আগামী দু’এক সপ্তাহে সমুদ্র উপকূল ও নদ-নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ মিলবে। বর্তমানে গভীর সুমদ্রে ১০০-১৫০ ফুট জাল ব্যবহারকারী জেলেরা ইলিশ পাচ্ছে। দু’এক সপ্তাহ পর ২০-৩০ ফুট জাল ব্যবহারকারী জেলেদের জালেও ইলিশ মিলবে।’

কাজী সাঈদ/এসপি

Link copied