সরকারি ঘর দেওয়ার প্রলোভনে টাকা আত্মসাৎ : যুবকের কারাদণ্ড

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব‌রিশাল

১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৬ পিএম


সরকারি ঘর দেওয়ার প্রলোভনে টাকা আত্মসাৎ : যুবকের কারাদণ্ড

বরিশালে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খলিলুর রহমান নামে ১ ব্যক্তিকে ১ বছ‌রের কারাদণ্ড দি‌য়ে‌ছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১৭ অক্টোবর) ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরিশাল সদরের সহকা‌রী ক‌মিশনার (ভূমি) নিশাত তামান্না এই দণ্ডাদেশ দেন। 

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম খলিলুর রহমান। তিনি সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের ফারুক হাওলাদারের ছেলে।

নিশাত তামান্না জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত ব্যক্তিতে আটক করে নিয়ে আসেন। ঘর দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছেন তা স্বীকার করেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিতে ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  
আদালতের এই ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, খলিলুর রহমান কোনো ভাবেই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সাথে জড়িত নন। তিনি যাদের কথা বলেছেন তাও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তবে তিনি যে এই প্রকল্পের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা নিয়েছেন তা প্রমাণিত হয়েছে। আর ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রতারক এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ অপরাধে তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে, সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের বারইকান্দি ও পতাং গ্রামে ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে কমিটি গঠন করেন খলিল। কমিটি দেখিয়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ঘর দেওয়ার জন্য ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু ঘর না দিয়ে দরিদ্র মানুষদের ঘুরাতে শুরু করেন। ১ জনকে চেক দিলে তা ব্যাংকে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। তখন তারা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। 

পরে স্থানীয়দের চাপে পড়ে রোববার (১৭ অক্টোবর) সকা‌লে টাকা দেওয়ার কথা বলে। সে অনুসারে খলিল বরিশাল কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে আসলে তাকে ধরে বরিশাল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে সোপর্দ করেন ভুক্তভোগীরা।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমান বলেন, প্রায় শতাধিক মানুষের কাছ থেকে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। প্রাথমিকভাবে আমরা যে তথ্য পেয়েছি তাতে মনে হলো এটি একটি চক্র। তারা একটি হাউজিংয়ের নাম ব্যবহার করে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তদন্ত করে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

সৈয়দ মেহেদী হাসান/আরআই

Link copied