হেমন্তের বাতাসে বাচ্চুকে কাঁদাচ্ছে পোড়ামাটির গন্ধ

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

০৫ নভেম্বর ২০২১, ০৯:১৬ পিএম


হেমন্তের বাতাসে বাচ্চুকে কাঁদাচ্ছে পোড়ামাটির গন্ধ

হঠাৎ লাগা আগুনে পুড়ে গেছে বাড়িঘর। হেমন্তের বাতাসে ভাসছে পোড়ামাটির গন্ধ। ঘরবাড়ি পোড়া বাচ্চু রায়ের স্বপ্নটাও ঝলসে গেছে আগুনে। লাখ টাকার গরু ছাগল হারিয়ে এখন বিলাপ করছেন। এই আহাজারি নিঃস্ব হবার যন্ত্রণা থেকে। এখন শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে ভিটেমাটির দিকে তাকিয়ে দেখছেন কিভাবে মুহূর্তেই সবকিছু শেষ হয়ে গেল।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামে থাকেন বাচ্চু রায়। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর। বৃহস্পতিবার (০৪ নভেম্বর) ভোররাতে আকস্মিক আগুনে তার ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। দগ্ধ হয়ে মারা গেছে স্বপ্ন দেখানো লাখ টাকার গরু-ছাগলও। সামান্য মশার কয়েল থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন বাচ্চু রায়ের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আগুনের ক্ষতচিহ্ন কাঁদাচ্ছে বাচ্চু রায়ের পরিবারকে। মুহূর্তে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে ভিটেমাটি ছাড়া কিছুই রাখেনি সর্বনাশা আগুনের লেলিহান শিখা। ধ্বংস স্তূপের ওপর খোলা আকাশ আর পায়ের নিচে মাটি। পুড়ে ছাই হওয়া আসবাবপত্রের সঙ্গে চোখে ধরা দিচ্ছে আগুনে আঙ্গার অন্য মালামালও। এসব দেখেই নিজেকে স্থির রাখতে পারছেন না নিঃস্ব এই পরিবার।

Dhaka Post

বাচ্চু রায়ের ছেলে দীপক রায় জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মশার কয়েল থেকে  আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তে ছড়িয়ে যায় গোটা বাড়িতে। এতে দুটি গরু, একটি ছাগলসহ চাল, কাপড়চোপড় সব পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আসলেও বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছানোর রাস্তা না থাকায় কোনো কাজে আসেনি। এককাপড়ে বের হয়ে এসে জীবন বাঁচিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। 

ক্ষতিগ্রস্ত বাচ্চু রায় বলেন, ‘আগুনে মোর সউগ শেষ করি দেইল। দুইটা গরু, একটা বকরি চউকের সামনোত পুড়ি ছটফট করি মরি গেল। তিলে তিলে গড়া সংসার শেষ হয়া গেল।’ 

অসহায় বাচ্চু রায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক মোরশেদুল হক। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের চারজন লোকের জন্য কাপড়, ২ বস্তা চাল, ডাল, মরিচ, পেঁয়াজ, লবণ, তেল সাবান, সবজি, মাছসহ ১৫ দিনের জন্য নিত্যপ্রয়োনীয় পণ্য বাজার করে দিয়েছেন তিনি।

মোরশেদুল হক জানান, বাচ্চু মিয়ার সংসারের সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এখন পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। তাদের জন্য একটি ঘর প্রয়োজন। মোরশেদুল হক ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতা করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মনুষত্বের খোঁজে।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এমএসআর

Link copied