ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

১৮ নভেম্বর ২০২১, ০৩:২৫ পিএম


ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন

রংপুরের বদরগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের দায়ে মনোয়ারুল ইসলাম মিঠু (৪১) নামে এক শিক্ষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-২ এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান এ আদেশ দেন। এ সময় আদালতের এজলাসে আসামি উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মনোয়ারুল ইসলাম মিঠু বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর সুগার মিলস হাই স্কুলের শিক্ষক।  তিনি রংপুর সদরের পুটিমারী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। ২০২০ সালের ৭ জুলাই তার বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২০ সালের ৩০ জুন বদরগঞ্জের শ্যামপুর সুগার মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে স্কুলে নিয়ে যান শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম মিঠু (৪০)। ওই সময় স্কুলে অন্য কোনো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। এই সুযোগে শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনার সাত দিন পর ওই ছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম মিঠুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদরগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ আলী ওই বছরের ৩১ আগস্ট শিক্ষক মনোয়ারুল ইসলাম মিঠুকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ১২ নভেম্বর চার্জ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রায় এক বছরে ১৪ জন সাক্ষী এবং ৫ জন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বৃহস্পতিবার বিচারক এ রায় দেন।

রায়ে আসামি মনোয়ারুল ইসলাম মিঠুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ছাড়াও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা ওই ছাত্রীকে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বিচারক মো. রোকনুজ্জামান রায়ের পর্যবেক্ষণে শিক্ষক কর্তৃক এ ধরনের ধর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর জাহাঙ্গীর আলম তুহিন বলেন, করোনাকালে মিথ্যা কথা বলে ওই ছাত্রীকে স্কুলে ডেকে আনা হয়। আসামি মনোয়ারুল ইসলাম পরে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা আদালতে মামলার সত্যতা প্রমাণ করতে পেরেছি। একই সঙ্গে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছি।  

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর

Link copied