শেরপুরে সাংবা‌দি‌কের ওপর পৌর মেয়রের হামলা, সড়ক অব‌রোধ 

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, শেরপুর

২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৫:১৭ পিএম


অডিও শুনুন

শেরপুরের নকলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের খবর সংগ্রহ করার সময় নকলা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন ও তার সহযোগীদের হামলার নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও আজকের পত্রিকার শেরপুর প্রতিনিধি জুবাইদুল ইসলাম আহত হয়েছেন। 

রোববার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার গৌড়দ্বার ইউনিয়নের পাইস্কা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। খবর পে‌য়ে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা মেয়‌রের শা‌স্তির দা‌বি‌তে শেরপুর-ঢাকা মহাসড়ক অব‌রোধ ক‌রেন। পরবর্তী‌তে প্রশাস‌নের আশ্বা‌সে তারা অব‌রোধ তু‌লে নেন। 

ভু‌ক্তভোগী সাংবা‌দিক জুবাইদুল ইসলাম জানান, তি‌নি পাইস্কা কেন্দ্রে ভোটের চিত্র সংগ্রহ করে ফিরছিলেন। এ সময় নকলা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান তার পথ আটকে অত‌র্কিতভা‌বে হামলা ক‌রেন এবং তা‌কে ওই কেন্দ্র ত্যাগ করার জন্য হুমকি দেন। এ সময় মেয়‌রের সহ‌যো‌গীরা তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত ক‌রতে থাক‌লে হা‌তে থা‌কা ট্রাইপড ভেঙে যায় এবং ক্যামেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা শেরপুর ঢাকা-মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রশাসন ও পু‌লিশের আশ্বা‌সে অব‌রোধ তু‌লে নেন তারা।

নকলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) ইস্কাদার হা‌বিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনাদের কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানান। না হলে এই মহাসড়কে গাড়ির জ্যাম লেগে যাবে। যেহেতু এলাকায় নির্বাচন চলছে তাই আপনারা একটু আমাদের সহযোগিতা করুন। 

 পাইস্কা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রব বলেন, সাংবাদিকরা জাল ভোট দিতে বাধা দিলে পৌর মেয়র লিটন ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এরপর সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ও প্রিসাইডিং অফিসারের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

তবে নকলা পৌরসভার মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি ব্যক্তিগত কাজে ময়মনসিংহে আছি। নকলা উপজেলার পাইস্কা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কী ঘটেছে সেটা আমি জানি না।

এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শানিয়াজ্জামান তালুকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা সব সময় সাংবাদিকবান্ধব। উনাদের যে কোনো প্রয়োজনে আমি সহযোগিতা করি। বিশেষ করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য বা বক্তব্য লাগলে আমি সেটি দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে আজকের ঘটনাটি আমাদেরকে কষ্ট দিয়েছে। যদি পৌর মেয়র লিটন প্রকৃতপক্ষে কোনো ফৌজদারি অপরাধ বা আইন লঙ্ঘন করেন তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাহিদুল খাল সৌরভ/আরএআর

Link copied