লালপুরে ভরাডুবির মূল কারণ অপাত্রে নৌকা দেওয়া

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, নাটোর

২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৩৮ পিএম


লালপুরে ভরাডুবির মূল কারণ অপাত্রে নৌকা দেওয়া

নাটোরের লালপুর উপজেলা বরাবরই বিএনপির ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। এ উপজেলার নাম নিলে সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলার রহমান পটলের নাম আসবে। তবে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণে এবার সেই উপজেলায় নৌকার প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ৩টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বাকি ৭টির মধ্যে দুটিতে বিএনপির স্বতন্ত্র ও ৫টিতে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।

তবে নৌকার প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, যারা চেয়ারম্যান ছিলেন, তারাই বেশির ভাগ নৌকা মার্কা পেয়েছিলেন। যে কারণে তাদের দুর্নীতি আর অপাত্রে নৌকা দেওয়ার কারণে এমন ভরাডুবির ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে নৌকার প্রার্থীদের চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জনপ্রিয় হওয়ার কারণে নৌকার এমন পরাজয়।

ভোট বিশ্লেষণে দেখা যায়, লালপুর সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত আবু বকর সিদ্দিক পলাশ (নৌকা) ৬৮৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোয়ার হোসেন নান্টু (ঘোড়া) প্রতীকে ৫৭৭৪ ভোট পেয়েছেন।

ঈশ্বরদী ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল আজিজ রঞ্জু ঘোড়া ৬৯৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিনুল ইসলাম জয় ৬১৭০ ভোট পেয়েছেন।

চংধুপইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম নৌকা প্রতীকে ১৩০৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন অরেঞ্জ ঘোড়া প্রতীকে ৩৬৪০ ভোট পেয়েছেন।

আড়বাব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মকলেছুর রহমান ঘোড়া প্রতীকে ভোট পেয়ে ৬৮৮৩ বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের ইমদাদুল হক নৌকা প্রতীকে ৩৯১৪ ভোট পেয়েছেন।

বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নে সিদ্দিক আলী মিষ্টু ঘোড়া প্রতীকে ৪৮৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান মিন্টু আনারস প্রতীকে ৪৮৫১ ভোট পেয়েছেন।

দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নে তোফাজ্জল হোসেন তোফা আনারস প্রতীকে ৬১২৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

এবি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আসলাম আনারস প্রতীকে ৫৯১১ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সাত্তার নৌকা প্রতীকে ২৯২৮ ভোট পেয়েছেন।

দুয়ারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম লাভলু নৌকা প্রতীকে ৫৫৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান জার্জিস ঘোড়া প্রতীকে ৪১৮৮ ভোট পেয়েছেন।

ওয়ালিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী আলম ঘোড়া প্রতীকে ৯৪৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী আনিছুর রহমান নৌকা প্রতীকে ৮৭৫৯ ভোট পেয়েছেন।

কদিমচিলান ইউনিয়নে আনছারুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে ৮২২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা নৌকা প্রতীকে ৩৯৭৯ ভোট পেয়েছেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আছলাম সোমবার বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। আমরা সে মোতাবেকই কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি।

উল্লেখ্য, তৃতীয় ধাপে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে গতকাল রোববার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

তাপস কুমার/এনএ

Link copied