চেয়ারম্যানের পার্কে বোমা তৈরি, হাত উড়ে যাওয়া কারিগরের মৃত্যু

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৩০ পিএম


চেয়ারম্যানের পার্কে বোমা তৈরি, হাত উড়ে যাওয়া কারিগরের মৃত্যু

ফারিয়া পার্ক

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সীর মালিকানাধীন পার্কে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে আহত কারিগরের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ ডিসেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন। তিনি জানান, কারিগরকে জীবিত অীবস্থায় আটক করা গেলে রহস্য উদঘাটনে সহজ হতো।

তিনি বলেন, নিহতের নাম হারুন হাওলাদার। তিনি উপজেলার বেজগাতি গ্রামের বারেক হাওলাদারের ছেলে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তাদের আটক করতে পারলে মূল কারণ উদঘাটন করা যাবে।

হারুনের ছোট ভাই সালাউদ্দিন হাওলাদার জানান, বোমায় তার ভাইয়ের (হারুন হাওলাদার) দুই হাতের কনুই পর্যন্ত উড়ে যায়। ঝলসে যায় মুখমণ্ডল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হারুনকে শনিবার রাত ৩টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা উন্নত চিকিৎসার জন্য হারুনকে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় হারুনকে শনিবার সন্ধ্যার পরে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে রোববার রাত আড়াইটার দিকে হারুন মারা যান।

জানা যায়, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ফরহাদ মুন্সীর মালিকানাধীন ফারিয়া পার্কের পরিত্যক্ত টিনের ঘরের ভেতর শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে যুবলীগ কর্মী রায়হান ফকির, কাওছার এবং হারুন বোমা তৈরি করছিলেন।

বোমা তৈরির সময় অসাবধানতাবশত বিস্ফোরিত হয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। আহতরা আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ওদিকে বোমার কারিগরের অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামাল হোসেন জানান, এসআই ইমাম হোসেন ১৪ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেছেন। এজাহারভুক্ত আসামি পার্কের পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবদুর রহমান মীরকে গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সৈয়দ মেহেদী হাসান/এমএসআর

Link copied