শ্রীপুরে ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার হলো মহুয়া এক্সপ্রেস

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর

২১ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫৭ এএম


শ্রীপুরে ১৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার হলো মহুয়া এক্সপ্রেস

গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ রেল স্টেশনে লাইনচ্যুত মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুর্ঘটনার ১৭ ঘণ্টা পর দুটি বগি ও একটি ইঞ্জিন উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) ভোর রাত ৫টা ৩০ মিনিটের সময় উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন কাওরাইদ রেল স্টেশনের মাস্টার আল আমিন মৃধা।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মহুয়া এক্সপ্রেস কাওরাইদ স্টেশনে প্রবেশের সময় স্টেশন ভবন এলাকায় দুই নাম্বার লাইনে লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির দুটি বগির চারটি চাকা ও ইঞ্জিনের দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এরপর বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে রিলিফ ট্রেন গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে।

পরে ৬টা ৩৫ মিনিটে প্রথম একটি বগি উদ্ধার করা হয়। পরে রাত ৯টা ৩০ মিনিটে অপর আরেকটি বগি উদ্ধার করা হয়। সবশেষ ভোর রাত ৫টা ৩০ মিনিটে ইঞ্জিন উদ্ধার করা হলে উদ্ধারকাজ সমাপ্ত করা হয়।

দুর্ঘটনার সময় কাওরাইদ রেল স্টেশনে কর্তব্যরত ছিলেন স্টেশন মাস্টার আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, ঢাকা থেকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১টা ১২মিনিটে শ্রীপুর স্টেশন ছাড়ে। ১১টা ৩৫ মিনিটে ট্রেনটি কাওরাইদ স্টেশন এলাকায় প্রবেশের আগেই ইঞ্জিন ও দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

তিনি আরও জানান, কাওরাইদ রেললাইন স্টেশন এলাকায় রেল লাইন মেরামতে কাজ চালাচ্ছিল মেরামতকারী সদস্যরা। তারা ২ নম্বর লাইনের নিচে কাঠের স্লিপার সরিয়ে ফেললে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ২ নম্বর লাইন মেরামতের বিষয়টি কাওরাইদ স্টেশন মাস্টারকে অবহিত করেনি মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান। 

এদিকে, অবহিত না করায় মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে স্টেশনের ২ নাম্বার লাইনে প্রবেশের অনুমতি দেয় স্টেশনে কর্তব্যরত মাস্টার। পরে ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশের সময় স্টেশন ভবন এলাকায় একটি ইঞ্জিন ও দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে রেলওয়ের পিডব্লিউ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, স্টেশন মাস্টারকে জানিয়েই সকাল থেকে ওই লাইনে মেরামত চলছিল। স্টেশন মাস্টারে ভুল সিগন্যালের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান।

তবে স্টেশন মাস্টার আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আমাকে না জানিয়েই তারা লাইন মেরামতের কাজ করছিল। এছাড়াও কোনো ট্রেন স্টেশনের প্রবেশের আগে একাধিকবার মাইকিং করে যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হয়, ট্রেনটি কত নাম্বার লাইনে থামবে। এখানেও মাইকিং করা হয়েছিল, কিন্তু মেরামতকারীরা মাইকিং শুনেও দুই নাম্বারে লাইনে ট্রেন প্রবেশে নিষেধ করেননি।

শিহাব খান/এমএসআর

Link copied