বিজ্ঞাপন

গরম তেলে হাত দিয়ে ডালপুরি ভাজেন লিয়াকত

ফুটন্ত তেল হাত দিয়ে নেড়ে ডালপুরি ভাজছেন। এক দুই দিন ধরে নয়, গত ১৫ বছর এভাবেই মুখরোচক পুরি তৈরি করছেন তিনি। তার নাম লিয়াকত আলী। বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেরার তারাকান্দিতে। লিয়াকতের ফুটন্ত তেলে হাত দিয়ে ডালপুরি ভাজার গল্প এখন লোকজনের মুখে মুখে। এ দৃশ্য দেখতে ও খাবার কিনতে প্রতিদিন তার দোকানে ভিড় করছেন অনেকেই।

মুখরোচক ডালপুরি বিক্রি করে জীবন-সংসারকেও মনের মতো করে সাজিয়েছেন লিয়াকত। তার এমন সাফল্যের কারণে এলাকায় তিনি ডালপুরি লিয়াকত হিসেবেই পরিচিত।

Dhaka Post

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান লিয়াকত আলী। ৪০ বছর আগে অভাবের সংসারে হাল ধরতে বেছে নিয়েছিলেন বাড়ির পাশের বাজারে ডালপুরি বিক্রির ব্যবসা। তারাকান্দি মধ্য বাজারের সরকারি জমিতে তৈরি এক চালা ঘরে ব্যবসা তার। মুখরোচক ডালপুরি তৈরিতে তার হাতের যশ অন্য পাঁচজন ব্যবসায়ী থেকে তাকে বরাবরই আলাদা করে রেখেছে। সেইসঙ্গে রপ্ত করেছেন ফুটন্ত তেলে হাত দিয়ে ডালপুরি নাড়াচাড়া।

হোসেনপুর থেকে শিক্ষক ও বন্ধুদের সঙ্গে ডালপুরি খেতে এসেছে কলেজছাত্র মাহমুদুল হক রিয়াদ। সে ঢাকা পোস্টকে বলেন, গরম তেলে হাত দিয়ে ডালপুরি ভাজছেন লিয়াকত আলী নামে এক ব্যক্তি। এমন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। তাই আজ সেই দৃশ্য নিজ চোখে দেখতে এসেছি।

Dhaka Post

বাজারের জিলাপি ব্যবসায়ী ইলিয়াস মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই লিয়াকত চাচার এই কারিশমা দেখে এসেছি। এখনও দেখতেছি। অনেক দূর থেকে চাচার হাতের এই দৃশ্য দেখতে ছাত্র-ছাত্রীসহ অনেক লোক প্রতিদিনই আসে। চাচাও গরম তেলে হাত দিয়ে ডালপুরি ভেজে মানুষকে দেখাতে আনন্দ পায়।

তারাকান্দি গ্রামের ঈমান আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, লিয়াকত ডালপুরির ব্যবসা করে ঘর-বাড়ি করেছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছে। 

ডালপুরি ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভাবের সংসারে হাল ধরতে ৪০ বছর আগে এ ব্যবসা শুরু করি। ডালপুরি ভাজার কাজে প্রথমে ঝাঁঝর ব্যবহার করতাম। এক সময় মনে হলো গরম তেলে হাত দিয়ে যদি ভাজা যাই তাহলে অনেক লোক দেখতে আসবে। ব্যবসাও ভালো হবে। এই ভাবনা থেকে উত্তপ্ত তেল নাড়াচাড়া করে ডালপুরি ভাজতে থাকি। এখন বেশ দক্ষতার সঙ্গে এই কাজ করছি। 

এসপি