হাত-পা অচল, মুখ দিয়ে লিখে উজ্জ্বলের এইচএসসি জয়

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৩৯ এএম


হাত-পা অচল, মুখ দিয়ে লিখে উজ্জ্বলের এইচএসসি জয়

হাত-পা আছে। কিন্তু অকেজো। মনে শক্তি থাকলেও দাঁড়াতে পারেন না। স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারে না। যেন বুক ফাটে তবু মুখ ফোটে না। শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে যুদ্ধ করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন জোবায়ের হোসেন উজ্জ্বল। মুখ দিয়ে উত্তরপত্র লিখে এইচএসসি পরীক্ষা জয় করেছেন। মেধাযুদ্ধে ৪.৫৮ পয়েন্ট নিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে কৃতকার্য হয়েছেন। 

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন জোবায়ের হোসেন উজ্জ্বল।‌ নিজের সাফল্যে আত্মহারা অদম্য এই শিক্ষার্থী। হতে চান কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। আরও পড়ালেখা করতে চান, কিন্তু এ কথা বোঝাতে গিয়ে কষ্টের যে অভিব্যক্তি তার চোখেমুখে ফুটে উঠল তা দেখলে যে কারও মন কাঁদবে।

উজ্জ্বল উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নের হযরতপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক জাহিদ সারোয়ারের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। জন্মের পর থেকে নানা রকম শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় বেড়ে ওঠে উজ্জ্বল। নিজ বিছানাকে শ্রেণিকক্ষ বানিয়ে দিনরাত মুখে কাঠি নিয়ে বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টিয়ে চলত পড়াশোনা। শুধু তাই নয়, মুখ দিয়ে মোবাইল ফোন চালিয়ে অনলাইনে ক্লাসও করত। মুখে কাঠি নিয়ে কিবোর্ডে আঁচড় ফেলে কম্পিউটারে টাইপ করত।

উজ্জ্বলের বাবা জাহিদ সারোয়ার বলেন, এসএসসি পাস করার পর উজ্জ্বলকে বালারহাট কলেজে ভর্তি করি। করোনার কারণে অটোপাস দেওয়ার খবরে তার মন খারাপ ছিল। তার ইচ্ছা ছিল, পরীক্ষা দিয়ে সে এইচএসসি বাধা টপকাবে। পরে সশরীরে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুনে সে দারুণ খুশি হয়েছিল। বাসা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে অটোরিকশায় শুয়ে সে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়া-আসা করত। কেন্দ্রে বিছানায় শুয়ে সব পরীক্ষা দেয় উজ্জ্বল। সে পরিবারের বোঝা না হয়ে, সরকারি চাকরি করে আত্মনির্ভরশীল হতে চায়।

উজ্জ্বল বলেন, সব প্রতিকূলতাকে হারিয়ে এভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আরও পড়ালেখা করে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। আমার হাত-পা অচল, স্পষ্ট করে কথা বলার শক্তি নেই। তারপরও থেমে থাকিনি, ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখেছি। এখন স্বপ্নপূরণে সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতা চাই। 

বালারহাট আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন বলেন, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও লেখাপড়ার দিকে মেধাবী উজ্জ্বলের চম্বুক টান ছিল। সে যে ফল বয়ে এনেছে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীও তা করতে পারেনি। শুয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বোর্ড থেকে অনুমতি নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমরা চাই প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে সে জীবনে আরও ভালো কিছু করুক।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসপি

Link copied