প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় কমছে ঋণ, বাড়ছে সরকারি অর্থ

Shaid Ripon

০১ মার্চ ২০২১, ২০:১৯

প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় কমছে ঋণ, বাড়ছে সরকারি অর্থ

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ কমছে প্রায় ৩১৮ কোটি টাকা। ঋণের অর্থ কমলেও ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস বা সরকারি অর্থ আরএডিপিতে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হবে। গণভবন থেকে এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করবেন এনইসির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অন্যদিকে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। পরিকল্পনা কমিশন ইতোমধ্যেই আরএডিপির খসড়া চূড়ান্ত করেছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণমিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা) মো. আশরাফুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘কিট অ্যালাউন্স’ আরএডিপিতে যুক্ত করা হয়েছে। এটি এডিপিতে ছিল না। যার ফলে আরএডিপিতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৈদেশিক ঋণের টাকা কেন কমছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনার কারণে অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া ঋণের টাকা কমলেও এটা থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী অর্থবছর খরচ করা যাবে। এর বাইরে কিছু জানতে হলে অফিসে আসতে হবে। কাগজপত্র দেখে বিস্তারিত বলতে পারবো বলে জানান তিনি। 

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্থবছরের মাঝপথে এসে বৈদেশিক অর্থ খরচ করতে না পারার শঙ্কায় ঋণের থেকে ৭ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ লাখ টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে আরএডিপিতে। সংশোধনী প্রস্তাবে সরকারি অর্থ না কমলেও বৈদেশিক অর্থ কমে দাঁড়াচ্ছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। আরএডিপিতে মোট বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। যা অনুমোদিত এডিপি থেকে বরাদ্দ কমছে ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের প্রধান খোন্দকার আহসান হোসেন বলেন, চাহিদার ভিত্তিতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব এনইসি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। পরিকল্পনা কমিশন আরএডিপির খসড়া বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। আরএডিপিতে হ্রাস করা অর্থ বিদেশি উৎস থেকে কেটে নেওয়া হবে এবং সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ অপরিবর্তিত থাকবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকনোমিক ও অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘যেসব প্রকল্পে বিদেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো কাজ না করলে তো সংস্থাগুলো অর্থছাড় করবে না। আগে খরচ করতে হবে। এগুলোকে আরপিএ বলে। প্রকল্পের কাজ কেন এগোয় না এটা প্রকল্প ওয়াইজ সমস্যা। সাধারণভাবে দেখা যায় এবং আইএমইডির বিভিন্ন রিপোর্টেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সমস্যার কথা বলা হয়।’

তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ সময় প্রকল্পে ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেরি হয়। একবারে টেন্ডারিং হয়ে যায় এরকম দৃষ্টান্ত খুব কম। টেন্ডারিং, রিটেন্ডারিং এখানেই ঘুরপাক খেতে থাকে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে যদি কোনো প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয় থাকে এবং যদি ভূমি অধিগ্রহণে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয় তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হয়। এজন্য প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সব সমস্যা নিষ্পত্তি করতে পারলে বাস্তবায়নের সময় জটিলতা সৃষ্টি হয় না।’

ড. জাহিদ আরও জানান, ‘এর বাইরেও প্রকল্পের জনবল নিয়োগ দিতে দেরি হয়। এছাড়া একাধিক প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা একজনকে দেখা যায় পিডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কাউকে একাধিক প্রকল্পের পিডি হিসেবে দায়িত্ব দিতে চাইলে সেটা তারা নিয়ে নেয়। কারণ একটা নতুন প্রকল্পে ঢুকলেই তো এর সঙ্গে তাৎক্ষণিক উপকার থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আইটেম হলো বিদেশ ভ্রমণ। এরপর গাড়ির সুবিধা এবং অতিরিক্ত কিছু বেনিফিট পাওয়া যায়। এজন্য একজনকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব কারণেই প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হয়।’

এসআর/এসএম

Link copied