শিল্পের আমদানি মূল্য পরিশোধে ৫০০০ কোটি টাকার তহবিল

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:২৯ পিএম


শিল্পের আমদানি মূল্য পরিশোধে ৫০০০ কোটি টাকার তহবিল

রপ্তানি এবং উৎপাদনমুখী শিল্পখাতের পরিবেশবান্ধব মূলধনী যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশের আমদানি মূল্য পরিশোধের জন্য ৫০০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রিন ট্রান্সফর্মেশন ফান্ড (জিটিএফ) নামের এ তহবিল থেকে স্বল্প সুদে দেশীয় মুদ্রায় (টাকা) পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হবে।  

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাঠে পাঠিয়েছে।

রপ্তানি এবং উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব মূলধনী যন্ত্রাদি এবং যন্ত্রাংশের আমদানি বা ক্রয়ের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার মেয়াদকাল হবে ৫-১০ বছর (প্রকল্পের ধরন অনুযায়ী)।  

কোন কোন কাজে মিলবে জিটিএফ

আর্দ্রকরণে পানি ব্যবহারের দক্ষতা, পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ব্যবহারে দক্ষতা ও পুনর্ব্যবহার, নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তি দক্ষতা, তাপ ও তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনা, বায়ু চলাচল ও প্রবাহ দক্ষতা, কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন উদ্যোগ এবং সময় সময় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য ক্ষেত্র।

অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান

এ তহবিলের আওতায় পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা প্রাপ্তির জন্য আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের (পরিচালক, সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা) সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি করতে হবে। এ চুক্তিতে আবদ্ধ ব্যাংকগুলো পিএফআই হিসেবে গণ্য হবে। এ তহবিলের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় জারি করা সার্কুলার বা সার্কুলার লেটারের মাধ্যমে বর্ণিত নির্দেশনা পরিপালন করতে হবে।

সুদ ও মুনাফার হার

বাংলাদেশ ব্যাংক এক শতাংশ সুদে অর্থ দেবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ।

মেয়াদি ঋণ বা বিনিয়োগ পিএফআই ও গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রেস পিরিয়ড হবে সর্বোচ্চ ০১ (এক) বছর।

কারা ঋণ পাবে

পরিবেশবান্ধব মূলধনী যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশের আমদানিমূল্য পরিশোধ পরবর্তী ব্যাংকের অর্থায়ন অথবা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যন্ত্রাদি ও যন্ত্রাংশ ক্রয় করার বিপরীতে এ তহবিল হতে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হবে।

এ তহবিলের আওতায় একজন ঋণ গ্রহিতার ঋণ বা বিনিয়োগ-মূলধন অনুপাত হবে সর্বোচ্চ ৭০ঃ৩০। তবে কোনো একক ঋণগ্রহিতা এ তহবিলের আওতায় কোনভাবেই ২০০ কোটি টাকার অধিক ঋণ সুবিধা প্রাপ্য হবে না। খেলাপি ঋণগ্রহিতা পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা পাবে না। পর পর দুটি রপ্তানি বিল সম্পূর্ণ বা আংশিক অপ্রত্যাবাসিত থাকলে এ তহবিলের সুবিধা পাবে না।

সব রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক এ পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার আওতায় ঋণ দিতে পারবে। তবে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংক এ তহবিলের অর্থ নিতে হলে খেলাপি ঋণের এর হার ১০ শতাংশের কম হতে হবে।

এসআই/কেএ

Link copied