সময়োপযোগী বাজেট, প্রয়োজন ‘স্বচ্ছতা’ নিশ্চিত করা

Dhaka Post Desk

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ জুন ২০২১, ০১:৩৯ এএম


সময়োপযোগী বাজেট, প্রয়োজন ‘স্বচ্ছতা’ নিশ্চিত করা

বাজেটে করপোরেট ট্যাক্স হ্রাস করা এবং দেশীয় শিল্পকে সুবিধা প্রদান অর্থনীতিকে বেগবান করবে বলে মনে করেন চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম। ঘোষিত বাজেট অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য ‘জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ’। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। ঘোষিত বাজেটের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়ায় এমন মন্তব্য করেন মাহবুবুল আলম।

তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতির গতি সঞ্চার রাখার জন্য প্রস্তাবিত বাজেট সময়োপযোগী। কৃষি খাতে ৪৮ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৫৯ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া ইতিবাচক। তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি  বলেন, ব্যক্তিগত করদাতাদের ব্যবসায়িক টার্নওভার ০.৫ শতাংশের থেকে ০.২৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২.৫০ শতাংশ, নন-পাবলিকলি কোম্পানির ৩২.৫০ শতাংশ থেকে 
কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। এক ব্যক্তির কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশের প্রস্তাব করা হয়েছে। আয় না থাকলে সম্পদের ওপর সারচার্জ পরিশোধের বিধান বাতিল করা হয়েছে এবং ন্যূনতম সারচার্জ বিলুপ্ত করা হয়েছে যা প্রশংসনীয়। 

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা হয়নি, আমরা এ সীমা বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামালের অগ্রিম কর ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২ শতাংশ এবং সিমেন্ট ও লৌহ জাতীয় পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৩ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ নির্ধারণ করায় নির্মাণ শিল্প ও রফতানি শিল্প উপকৃত হবে।

‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিং-এর লক্ষ্যে মেগা শিল্প উৎপাদনে এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্স-এর ক্ষেত্রে ২০ ও ১০ বছরের কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটাও ভালো উদ্যোগ।

মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের কাঁচামাল বা উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে, যা শিল্পায়নকে উৎসাহিত করবে। এছাড়া চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও টার্মিনাল নির্মাণ হলে এ বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। তবে বে-টার্মিনাল নির্মাণে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা এবং চলমান মেগা প্রকল্পসমূহ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক আট লেনে উন্নীতকরণসহ দ্রুতগতির ট্রেন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ঢাকার ন্যায় চট্টগ্রামেও স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানান এ ব্যবসায়িক নেতা। ভ্যাট ফাঁকি, ব্যর্থতা বা অনিয়মের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণের পরিবর্তে সমপরিমাণ এবং বকেয়া ভ্যাটের সুদহার বার্ষিক ২৪ শতাংশের পরিবর্তে ১২ শতাংশ করা ভ্যাটদাতাদের উৎসাহিত করবে বলেও মত দেন তিনি। বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে এক লাখ সাত হাজার ৬১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে সরাসরি এ সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। 

এছাড়া বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা হ্রাসে দেশীয়ভাবে গৃহস্থালি পণ্য যেমন- ব্লেন্ডার, জুসার, মিকচার, গ্রাইন্ডার, কেটলি, রাইস কুকার, প্রেশার কুকার, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন ইত্যাদি উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে যাতে দেশীয় উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন।

সড়কে নসিমন, লেগুনা ইত্যাদি দুর্ঘটনাপ্রবণ যানবাহন নিরুৎসাহিত করতে বিকল্প হিসেবে মাইক্রোবাস আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। এছাড়া ডাম্পার/ট্রিপার সিকেডি আমদানিতে শুল্কহার হ্রাস এবং মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী/সংযোজনকারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা প্রদান দেশীয় এসব শিল্প সম্প্রসারণে সহায়ক হবে— জানান চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি।

কেএম/এমএআর/ 

 

টাইমলাইন

Link copied