টেকসই প্যাকেজিং খাত গড়তে প্রয়োজন ব্যবসাবান্ধব নীতি

টেকসই প্যাকেজিং খাত গড়ে তুলতে ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তারা মনে করেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে অনুষ্ঠিত গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ (জিটিবি) ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।
চার দিনব্যাপী দেশের বৃহত্তম গার্মেন্ট প্রযুক্তি প্রদর্শনীটি যৌথভাবে আয়োজন করে এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রা. লি. এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আইসিসিবির এক্সপো ভিলেজে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।
বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, অর্থ পাচারকারী দুর্নীতিবাজরা ব্যবসায়ী সেজে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কখনো দেশের টাকা লুট করতে পারে না।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কোনো বিকল্প নেই। আমরা এখন প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও কিছু নীতিমালা আমাদের শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ফ্রি অব কস্ট’ (এফওসি) আমদানির সুবিধা ১০০ শতাংশ করা হলে সব পণ্য বাইরে থেকে আসবে, ফলে দেশীয় কারখানাগুলো টিকবে না। আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়াতে হবে এবং বন্দরের অতিরিক্ত কর ও লেভি কমিয়ে ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, এই সেক্টরের উদ্যম ও সক্ষমতা দেখে আমি আশাবাদী। গত অর্থবছরে প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজ খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সঠিক সুযোগ পেলে এ খাত ভবিষ্যতে পোশাক খাতকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সরকার গঠন করলে এই সেক্টরের সব সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে বিএনপি।
বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, এই সেক্টরটি বাংলাদেশের অন্যতম আন্ডাররেটেড সেক্টর হলেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত। কাঁচামাল আমদানি করে উল্টো রপ্তানি করা আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ করে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য গত এক বছর খারাপ অবস্থায় গেছে। আমাদের আগামীতে একটি স্থিতিশীল ও বিদেশিদের কাছে আস্থাভাজন গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন, যাতে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হয়।
ইপিবি পরিচালক আবু মোখলেছ আলমগীর হোসেন বলেন, এবারের মেলা গত বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি সফল হয়েছে। বিশ্ববাজারে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজিং মার্কেটে আমাদের অংশ বাড়াতে পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন। ‘প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার’ হিসেবে এ খাতের সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা সেমিনার করব এবং এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা করে বন্ডসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।
রপ্তানি বাণিজ্যকে বহুমুখীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিজিএপিএমইএ অন্যান্য বছরের মতো এবারও আয়োজন করে ১৫তম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো) ২০২৬। চার দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক শিল্প মেলা অনুষ্ঠিত হয় ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি।
এ বছর গ্যাপেক্সপোতে ১ হাজার ৫০০টি স্টলে বিজিএপিএমইএর সদস্যসহ দেশি-বিদেশি ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ভারত, চীন, পাকিস্তান, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলো মেলায় অংশগ্রহণ করে।
আয়োজকরা জানান, মেলায় গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের মেশিনারি, কাঁচামাল এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করা হয়। তাদের মতে, মেলাটি লক্ষাধিক দর্শনার্থী পরিদর্শন করেছেন, যা ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করেছে।
সমাপনী দিনে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে ৮টি স্টলকে ‘সেরা স্টল’ হিসেবে নির্বাচিত করে ক্রেস্ট দেওয়া হয়।
এসআই/এসএসএইচ