যুদ্ধ ও চেয়ারম্যান পরিবর্তনের গুঞ্জনে শেয়াবাজারে বড় পতন

চলতি সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস সোমবার (৩ মার্চ) দেশের শেয়ারবাজারে বড় পতন হয়েছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯১টি শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে মাত্র ৪২টি বাদে সবগুলোর দরপতন হয়েছে। এতে একদিনেই এক্সচেঞ্জটির সবগুলো মূল্যসূচক ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অবশ্য দরপতনের সুযোগে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি বেড়েছে, এতে লেনদেনের পরিমাণও দিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শেয়ারবাজার খুবই সেনসিটিভ জায়গা। এখানে ছোট ছোট বিষয়গুলো অনেক বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধে বাজার গত কয়েকদিন ধরেই টালমাটাল আচরণ করছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান পরিবর্তনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় আরও বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজারে সকাল থেকেই গুঞ্জন ছড়ায় যে, একজন সাবেক সচিবকে বিএসইসি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় আবারো শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে কোনো আমলাতান্ত্রিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আজ লেনদেনের শুরুতে প্রথম ১ মিনিট অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম ঊর্ধ্বমুখি ছিল। এর পর থেকেই বড় পতনের বৃত্তে চলে যায় বাজার। দাম কমার তালিকা হু হু করে বেড়ে যায়। দিনশেষে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯১টি সিকিউরিটিজের মধ্যে মাত্র ৩১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৩৪৯টির দাম। আর ১১টি শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকায় এই বিশাল সংখ্যক সিকিউরিটিজ চলে যাওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০৯ পয়েন্ট বা প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩২৫ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩৬ পয়েন্ট বা ৩ শতাংশের বেশি কমে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮৬ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশের বেশি কমে ২ হাজার ৫০ পয়েন্টে নেমেছে।
এদিকে সবকটি মূল্যসূচকে বড় পতন হলেও ডিএসইর লেনদেন আজ সামান্য বেড়েছে। মূলত সকাল থেকেই বিক্রেতার পাশাপাশি ক্রেতার উপস্থিতিও ভালো ছিল। আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। রোববার বাজারটিতে ৭৭৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সবগুলো মূল্যসূচকে বড় পতন হয়েছে। এক্সচেঞ্জটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই দিনের ব্যবধানে ৪১৪ পয়েন্ট বা প্রায় ৩ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ৮৬ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। আর প্রধান সূচক সিএসসিএক্সও প্রায় ৩ শতাংশ বা ২৭০ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ২২৯ পয়েন্টে নেমেছে।
বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৩টির এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। গতকাল সোমবার এক্সচেঞ্জটিতে ১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়।
এমএমএইচ/এসএম