প্রাইম ফাইন্যান্সের ব্যবসায়িক সক্ষমতা নিয়ে নিরীক্ষকের শঙ্কা

আর্থিক সংকটসহ নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। বর্তমানে কোম্পানিটির সম্পদের তুলনায় দায়ের পরিমাণ বেশি হয়ে পড়েছে, যা প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক অস্তিত্বকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই শোচনীয় অবস্থার কারণে কোম্পানিটির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।
২০২৩ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা শেষে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।
তথ্যমতে, গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে, যার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। ২০২৫ হিসাব বছরের আর্থিক হিসাব প্রকাশের সময় চললেও কোম্পানিটি গত ২১ জানুয়ারি কেবল ২০২৩ হিসাব বছরের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আর্থিক প্রতিবেদনে পাওয়া বিভিন্ন দুর্বলতার কারণে নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটি বর্তমানে তীব্র নগদ অর্থসংকটে ভুগছে। এ ছাড়া ২০১৫ সাল থেকেই কোম্পানিটির সংরক্ষিত মুনাফা (রিটেইন আর্নিংস) ঋণাত্মক পর্যায়ে রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সহযোগী ও অধীনস্থ কোম্পানিকে দেওয়া ঋণও এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাইম ফাইন্যান্সকে ১৯৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার সঞ্চিতি (প্রভিশন) ২০২৩ সাল থেকে পরবর্তী ৮ বছরের জন্য সমান হারে রাখার বিশেষ সুযোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোম্পানিটি বিগত দুই হিসাব বছরের মতো ২০২৩ সালেও লোকসান গুনেছে; এমনকি প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে পরিচালন লোকসানে রয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সঞ্চিতি গঠনের মতো পর্যাপ্ত মুনাফা করা কোম্পানিটির পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। মূলত দীর্ঘদিনের এই দুরাবস্থার কারণেই প্রাইম ফাইন্যান্সের ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া প্রাইম ফাইন্যান্সের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ২৭২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের ৪০ দশমিক ৮৬ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির (উদ্যোক্তা ও পরিচালক ব্যতীত) বিনিয়োগকারীদের কাছে।
এমএমএইচ/বিআরইউ