হাফ কেজি ওজনের পাঙাশ ৫০০ টাকা!

রাজধানীর একটি মাছ বাজারে এক ক্রেতা ঘুরে ঘুরে মাছ দেখছেন। পকেটের হিসাবের সঙ্গে বিক্রেতার চাওয়া দাম মিলছে না বলে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে যাচ্ছেন তিনি। একটি দোকানে পাঙাশ মাছের দাম জানতে চাইলে বিক্রেতা হাফ কেজি ওজনের একটি মাছের দাম হাঁকেন ৫০০ টাকা। শুনে বিস্ময়ে বিমূঢ় ক্রেতা খানিকটা সময় নিয়ে বলে ওঠেন, ‘পাঙাশের কেজি ৫০০! কোন দেশে বসবাস করছি?’
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি কাটিয়ে সাধারণ মানুষ এখন বাজারে ফিরতে শুরু করেছেন। উৎসবের দিনগুলোতে গরু বা মুরগির মাংস খেয়ে এখন সাধারণ মানুষের ঝোঁক বেড়েছে মাছ ও সবজির দিকে। তবে বাজারে মাছের অতিরিক্ত দাম দেখে ত্যক্ত-বিরক্ত সাধারণ ক্রেতারা।

দাম নিয়ে সেই ক্রেতার বিস্ময়ের পর কথা হয় মাছ বিক্রেতা কায়সারের সঙ্গে। পাঙাশের দাম এত বেশি কেন– এমন প্রশ্নে কায়সার জানান, এটি চাষের পাঙাশ নয়, নদীর পাঙাশ। তিনি বলেন, ‘এই মাছ আপনি বাজারে সচরাচর পাবেন না। মাত্র দুটি পাঙাশ এনেছি। ওজন এক কেজির একটু বেশি হবে। একটি ৫৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। আর এটি আছে, এটি ৫০০ টাকার নিচে বিক্রি করব না।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ‘গরিবের মাছ’ খ্যাত পাঙাশের দামও এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে চাষের যে পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে, আজকের বাজারে তার দাম রাখা হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা।
বিজ্ঞাপন
চাহিদা থাকলেও বাজারে মাছের সরবরাহ বেশ কম। মূলত ঈদের ছুটিতে ব্যবসায়ীরা বাড়িতে থাকায় বাজারে মাছ বিক্রেতার সংখ্যাও কম দেখা গেছে। কয়েকটি বাজার ঘুরে একই মাছের দামে বেশ পার্থক্যও লক্ষ্য করা গেছে।

কোনো কোনো বাজারে রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা। আবার কোনো বাজারে একই সাইজের রুই মিলছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। হাফ কেজি ওজনের ইলিশ কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা। বড় কাতল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।
এছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ টাকা, পাঙাশ ২৪০ থেকে ২৫০, পঁটি ৫০০ থেকে ৭০০, টেংরা ৬৫০ থেকে ৭০০, ছোট ও বড় পাবদা যথাক্রমে ৪০০ থেকে ৬০০, গলদা চিংড়ি ছোট ও বড় যথাক্রমে ৯০০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

রাজু আহমেদ নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুরা বাজার ঘুরলাম। মাছের দোকানই আছে হাতেগোনা কয়েকটা। এরা মাছের দাম অনেক বেশি চাইছে। যে মাছ ঈদের আগেও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় কিনেছি, সেটা এখন কেজিতে আরও ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি।’
মাছ বিক্রেতা দিমান সাহা বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি গেছে। আমরা আড়ত থেকে মাছ কম আনছি, সেখানে দামও বেশি দিতে হচ্ছে। আমরা যেহেতু কেজিতে দু-চার পয়সা বেশি দিয়ে কিনে আনছি, তাই কিছুটা বেশি দামে বিক্রি না করলে লাভ থাকে না। আশা করি আগামী সপ্তাহ থেকে বাজার পুরোদমে খুলবে এবং মাছের সরবরাহ বাড়লে দামও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’
এনআই/বিআরইউ