এলএনজিসহ ৬ ক্রয় প্রস্তাবে ব্যয় হবে ২৮৮২ কোটি টাকা

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এক কার্গো এলএনজি ও এক কোটি লিটার পাম অয়েলসহ মোট ছয়টি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৮৮২ কোটি ৭২ লাখ ৯২ হাজার ৮৮ টাকা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১ (এক) কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন ৫টি লটে ক্রয়ের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের ১ কোটি পরিবারের নিকট ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এই পাম অলিন কেনা হচ্ছে। এ জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে ১৬টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে, যার সবকটিই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য (রেসপনসিভ) বিবেচিত হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ১৬৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় এই পাম অলিন ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি লিটার পাম অলিনের দাম পড়বে ১৬৩.৪৮ টাকা।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ভোজ্যতেল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ কোটি লিটার, যার মধ্যে এ পর্যন্ত ৬ কোটি ৫ লাখ লিটারের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
সভায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮’-এর বিধি-১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে ১০ম ও ১১তম লটের এই এলএনজি সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড। প্রতি কার্গো এলএনজির দাম পড়বে ৮৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫১২ টাকা। সেই হিসাবে দুই কার্গো আমদানিতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৬৬ কোটি ৭৯ লাখ ১৩ হাজার ২৪ টাকা।
এছাড়া সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ইপিআই কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকাসমূহ ইউনিসেফ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ১০ ধরনের রুটিন ইপিআই ভ্যাকসিন নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের জন্য ইউনিসেফ-এর কাছে অগ্রিম অর্থ প্রেরণের মাধ্যমে মোট ৬০৪ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৯৫ টাকার এই ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ১৪তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয়ের প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে কমিটি। প্রতি মেট্রিক টন ৪৭৬.৩৭৫ মার্কিন ডলার হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৫ কোটি ৩৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৫ টাকা।
এছাড়া ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় একটি বাফার গুদাম নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। ৪৩ কোটি ১৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৯ টাকায় এই গুদামটি নির্মিত হবে।
আরও জানা যায়, বাপবিবোর বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগ) প্রকল্পের আওতায় ৬৩ হাজার ১৭৭টি এসপিসি পোল ক্রয়ের প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ২২৯ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৯৩৫ টাকায় যৌথভাবে এই পোলগুলো সরবরাহ করবে দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, কনটেক কনসালট্যান্ট লিমিটেড, টিএসসিও পাওয়ার লিমিটেড ও পাশা পোলস লিমিটেড।
এমএম/বিআরইউ