‘ব্যবসায়ী মাত্র চোর, তাদেরকে ধরো’ এমন মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
আসন্ন জাতীয় বাজেট সামনে রেখে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠনটি দেশে স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। আলোচনায় ফিকি সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী ছাড়াও সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফিকির পক্ষে বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন করবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
বিজ্ঞাপন
রুপালী হক চৌধুরী বলেন, কোভিড থেকে শুরু করে আমাদের ডাউনফল শুরু হয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে ডলারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আমাদের সেক্টর ডিক্লাইন করেছে। বিভিন্ন খাত নেতিবাচক গ্রোথে আছে। আমাদের সহায়তা করলে ব্যবসাটা করতে পারবো। ক্রাইসিস বেড়ে গেলে কনজ্যুমার মার্কেট কমে যাবে। কোনো কোনো সেক্টরে একেকটা কোম্পানি নেগেটিভ ২০ শতাংশ গ্রোথ হয়েছে। নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না। আমাদের কর্মসংস্থান তৈরি ও রাজস্ব আদায়ের মধ্যে ব্যালন্স তৈরি করতে হবে। যারা কর দেয় তাদের উপর করের বোঝা বাড়ানো হয় তাহলে দুর্বল হয়ে পড়বো।
এনবিআরের চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার উপর কর বাড়ানোর চাপ আছে। কিন্তু যখন ব্যবসা বাণিজ্য ভাল করছে না তখন আপনি কর বাড়াবেন কী করে। কেউ ভালো করছে না। করের জাল বাড়াতে গেলেও আপনার সময় লাগবে। কিছু লোকের কমপ্লিসিটি আছে। তার জন্য আমরা দায়ী না। যেটার জন্য রেগুলেটারি বডিরাও দায়ী। সবাইকে এক নাগারে ব্যবসায়ী মাত্র চোর, সুতরাং তাদেরকে ধরো। এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
ফিকির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর) একাধিক প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, গাড়ির ফিটনেস করতে গেলে বিআরটিএ যেন তার কাছ থেকে টিআইন ও পিএসআর যেনো নেয়। এছাড়া এনবিআরের অটোমেশনে আলাদা রোড ম্যাপ চেয়েছে ফিকি। এছাড়া কর প্রদানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া ভ্যাট রিটার্ন সম্পূর্ণ অনলাইনে করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগামী বছর থেকে হাতে রিটার্ন নেব না। সফটওয়্যারজনিত সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।
এ সময়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আমরা ইনকাম ট্যাক্সের ৬০ হাজার অডিট সিলেকশন করবো। এটার কাজ চলছে। ২০২৩-২৪ এ অনলাইন বাধ্যতামূলক ছিল না। কিছু ডাটা ছিল, ওই ডাটা ব্যবহার করছি। ২০২৪-২৫ এ কিছু ডাটা অফলাইনে পড়েছে যেগুলো শতভাগ ডিজিটাল করা হবে। ধীরে ধীরে সব হবে। এটা নিশ্চিত এখানে কোনো মানুষের হাত থাকবে না।
আরএম/জেডএস
