পহেলা বৈশাখ আসতে এখনো প্রায় এক সপ্তাহ বাকি। তবে এরইমধ্যে মাছের বাজারে শুরু হয়ে গেছে বৈশাখের আমেজ। আর সেই আমেজের বড় অংশজুড়ে আছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা ও ইলিশ। বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু চাহিদা বাড়লেও বাজারে সরবরাহ কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দামে পড়েছে প্রভাব। আকারভেদে কেজিপ্রতি ইলিশের দাম মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত। দাম বৃদ্ধিতে অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। যাদের কাছে বৈশাখ মানেই পান্তা-ইলিশ, তাদের জন্য সেই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে ‘অতীত’ হতে বসেছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী কাঁচা বাজার, শ্যামবাজার, আফতাবনগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে আকারভেদে ১ কেজি ২০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যা এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হতো ২৮০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ থেকে ২৮০০ টাকায়, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। যা সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে আড়াইশ থেকে ৩শ টাকা। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা, কোথাও কোথাও ২২শ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। আর ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকা কেজি দরে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশের আমদানি খুবই কম। জেলেরা জালে তেমন মাছ পাচ্ছে না। আরেকদিকে অভিযান লেগেই থাকে অঞ্চলভেদে। বিশেষ করে মিঠাপানি ও উজানের মাছ এ মুহূর্তে খুবই কম পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে আমদানি কম এবং বৈশাখকে ঘিরে চাহিদা বেশি থাকায় থাকায় ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৪০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শুকুর আলী বলেন, জেলেরা খুবই কম মাছ পাচ্ছে জালে যে কারনে এ বছর মাছের আমদানি খুবই কম। বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশি থাকলে আমরাও কম দামে মাছ বিক্রি করতে পারতাম। বৈশাখকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই মাছের চাহিদা বেশি থাকে এবং দামও স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর বাজারে মাছের আমদানি কম থাকায় এক সপ্তাহ আগেই ইলিশের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
মহাখালী কাঁচা বাজারে একমাত্র মাছ বিক্রেতা শামীম মৎস্য ট্রের্ডাস এর কর্নধার মো. শামীম হোসেন বলেন এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম কেজিতে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে আরও বাড়বে। এ বছর মাছের আমদানি কম। জেলেরাও নদীতে আগের মতো মাছ পাচ্ছে না। আমরা বরিশালের বিভিন্ন স্থান থেকে মাছ নিছে আসি। এখানে আরও দুইজন ইলিশ মাছ বিক্রি করতো কিন্তু অতিরিক্ত দামের কারনে তারা এখানো মাছ নিয়ে আসেনি। হয়তো পহেলা বৈশাখের দুই তিন দিন আগে তারা মাছ নেবে। বর্তমানে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম, আর তিন চারদিন পরে ক্রেতা ও মাছের আমদানি কিছুটা হলেও বাড়বে।

দাম নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা
বিজ্ঞাপন
ধানমন্ডি থেকে কারওয়ান বাজারে মাছ কিনতে আসা সেলিনা বেগম বলেন, প্রতি বছরই আমরা পহেৱা বৈশাখের পাঁচ ছয় দিন আগেই ইলিশ কিনে থাকি। একই ধারাবাহিকতায় এবারও আমি কারয়ান বাজারে মাছ কিনতে এসেছি। কিন্তু একদিকে যেমন পছন্দ অনুযায়ী মাছ পাচ্ছি না, আবার দামও কেজি প্রতি ৩০০ চারশ টাকা বেশি রাখছে। সিন্ডিকেট করে বাজারে আমদানি কমিয়ে মাছের দাম বাড়িয়ে দিছে কিনা সরকারকে দেখার অনুরোধ রাখছি।
রকিফুল ইসলাম নামে গুলশান থেকে আসা এক ক্রেতা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি অফিসের জন্য মাছ কিনতে এসেছি। ৮০০ গ্রাম ওজনের পাঁচ কেজি মাছ কিনেছি ২৪০০ টাকা কেজি দরে। বৈশাখকে ঘিরে প্রতিবছরই আমাকে মাছ কিনতে হয়। কিন্তু এবছর আমার কাছে মাছের দাম অনেক বেশি মনে হয়েছে। বাজারে মাছের সরবরাহও কম মনে হয়েছে আমার।
এমএল/জেডএস
