বিজ্ঞাপন

কর বেশি হওয়ায় জমির প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধনে অনীহা, কমানোর দাবি

অ+
অ-
কর বেশি হওয়ায় জমির প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধনে অনীহা, কমানোর দাবি

জমি-প্লটের গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ফি, নিবন্ধন ফি, স্থানীয় সরকার কর ও ভ্যাট বাবদ ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ ব্যয় করতে হয়। নিবন্ধনে করহার বেশি হওয়ায় ক্রেতারা প্রকৃত ক্রয়মূল্যে নিবন্ধন করতে অনীহা দেখান। ফলে বিপুল রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

তাই রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে জমি-প্লটের নিবন্ধন ফি ও করহার কমিয়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএলডিএ)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি এ দাবি জানায়। 

সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিএলডিএ’র পক্ষে দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির সহাসচিব মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে নিবন্ধন কর দেওয়ার পরও প্রতি শতাংশে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা উৎসে কর বাবদ পরিশোধ করতে হয়। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতার পারস্পরিক সমঝোতায় পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ক্রয়মূল্যের চেয়ে কমমূল্যে জমি হস্তান্তরের প্রবণতা দেখা যায়। বিএলডিএ বলছে, উৎসে করের পরিমাণ দলিল মূল্যের ৩ শতাংশ নির্ধারণ করলে এই প্রবণতা কমবে। সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

এছাড়া সব মৌজায় বাণিজ্যিক জমির মূল্য বাজারদর সরেজমিনে যাচাই করে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বিএলডিএ। সংগঠনটি বলছে, অনেক সময় দেখা যায় বাণিজ্যিক প্লটের বিক্রয় মূল্যের চেয়েও বেশি মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সরকার জোয়ার সাহারা মৌজায় এক কোটি ৮৪ লাখ টাকা র্নিধারণ করলেও বাস্তব মূল্য অনেক কম।

বর্তমানে আবাসন শিল্পের জন্য সেকেন্ডারি মার্কেটে জমি-প্লটি বিক্রয়ে কোন কর ছাড়ের ব্যবস্থা নেই। বিএলডিএ এক্ষেত্রে সেকেন্ডারি বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ৩ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া ঢাকা শহরের জনসংখ্যার চাপ কমিয়ে ঢাকার বাইরে আবাসন শিল্পেকে উৎসাহিত করতে মেট্রোপলিটন ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ৫ বছর ও অন্যান্য পৌর এলাকায় ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একই দিনে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) জমির নিবন্ধন কর কমানোর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, জমির নিবন্ধন কর কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনলে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। পাশাপাশি রিহ্যাব গেইন কর, স্ট্যাম্প শুল্ক ও সব ফ্ল্যাটে ২ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণের দাবি তুলেছে।

আলোচনায় রিহ্যাবের পক্ষে এর সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়াসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

রিহ্যাবের সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ভবন নির্মাণ ও জমি উন্নয়ন-দুই ক্ষেত্রেই আমাদের ভ্যাট দিতে হয়।

বাজেট প্রস্তাবে রিহ্যাব জানায়, বর্তমানে গেইন ট্যাক্স ৩ থেকে ৬ শতাংশ, স্ট্যাম্প শুল্ক ১ দশমিক ৫০ শতাংশ, নিবন্ধন ফি ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ফি ২ থেকে ৩ শতাংশ, বর্গফুট হিসেবে ২ থেকে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এই খরচ কমিয়ে গেইন ট্যাক্স ৩ শতাংশ, স্ট্যাম্প শুল্ক ১ শতাংশ, নিবন্ধন ফি ১ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ফি ১ শতাংশ, বর্গফুট হিসেবে ২ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। 

এছাড়া সেকেন্ডারি মার্কেট সৃষ্টি, কংক্রিট ব্লকের এসআরও সংশোধন, মেট্রোপলিটন ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ৫ বছর ও অন্যান্য পৌর এলাকায় ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে ও আবাসন ক্রেতাদের ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করার বিধান রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

এসময় নিবন্ধন খরচ কমানোর বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘জমির নিবন্ধন খরচ বিক্রেতার দেওয়ার কথা। কিন্তু এখানে ক্রেতার ওপর এটা চাপানো হয়।’

রিহ্যাবের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, প্রবাসীরা অনেক সময় টাকা পাঠানোর পর ঘোষণা দেন না। তখন সেই অর্থ অঘোষিত বা কালো টাকা হিসেবে গণ্য হয়। এ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনতে না দিলে তা বিদেশে চলে যায়।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ৫৫ বছর ধরে এই সংস্কৃতিতে ছিলাম, আর থাকতে চাই না। এখন বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো খুব সহজ ও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে পাঠালে সরকার প্রণোদনাও দিচ্ছে। তাই প্রবাসীরা নিয়মিত হারে কর দিয়ে অর্থ বৈধ করবেন-এর বাইরে কিছু করা যাবে না।’

প্রসঙ্গত, ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নানা বিতর্কে পরে তা বন্ধ করে দেয় সরকার।

আরএম/এসএম