বিজ্ঞাপন

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ এখন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ এখন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত

শান্তা হোল্ডিংসের অগ্রজাত্রায় নতুন মাইলফলক হিসেবে “শান্তা পিনাকল” প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর হয়েছে, যা দেশের ভবন উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সংযোজন। দেশের প্রথম সম্পূর্ণ নির্মিত ৪০তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’-এর ৪০তম তলায় এই হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনটির ৪০তম তলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। 

এই আয়োজনটি বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাতে আধুনিক নির্মাণ সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি তুলে ধরে। এতে খন্দকার মনির উদ্দিনসহ শান্তা হোল্ডিংসের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ভূমির মালিকরা, গ্রাহক এবং স্থপতি এহসান খান উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতার আন্তর্জাতিক মানের এই ভবনটি দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্কাইস্ক্র্যাপার, যা নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। একইসঙ্গে, এ আয়োজন শুধু একটি প্রকল্পের সফল সমাপ্তিই নয় বরং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণে শান্তা হোল্ডিংস-এর অঙ্গীকারকেও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

‘পিনাকল’ প্রকল্পের সফল নির্মাণ সমাপ্তি টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছে। ভবনটি লিড প্লাটিনাম স্বীকৃত, যা বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সর্বোচ্চ মান হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে এটি এনএফপিএ-এর আধুনিক অগ্নি-নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে এবং এর কাঠামোগত নকশায় মেইনহারড সিঙ্গাপুরের সহায়তা ভবনটিকে ভূমিকম্প সহনশীলতার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করেছে।

প্রকল্পটি নির্মাণ প্রযুক্তিতেও বেশ কিছু নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র ৭ দিনে স্ল্যাব সম্পন্ন করার রেকর্ড গড়ে দ্রুততম সিভিল নির্মাণের উদাহরণ স্থাপন করা হয়েছে। ৬ দশমিক ৮ সিওপি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রিফিউগাল চিলার, যা শূন্য ওজন-ক্ষয়কারী রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করে, জ্বালানি দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া এমইআরভি ১৩ মানসম্পন্ন বায়ু পরিশোধন ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ বায়ুর গুণগত মান উন্নত করে এবং ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে।

এছাড়া, দেশে প্রথমবারের মতো উইন্ড টানেল টেস্টিং করা হয়েছে, যা ভবনের স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়েছে। ৪০ মিমি ইউনিটাইজড গ্লেজিং তাপ ও শব্দ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, ৮টি হাই-স্পিড লিফট এবং সমন্বিত আইবিএমএস সিস্টেম ভবনের কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও মজবুত করেছে।

‘পিনাকল’ প্রকল্পের সফল সমাপ্তি শান্তা হোল্ডিংসের আধুনিক চিন্তা, মানসম্পন্ন নির্মাণ এবং নিখুঁত বাস্তবায়নের প্রতি দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি একাধিক বাণিজ্যিক প্রকল্পের মাধ্যমে তেজগাঁওসহ ঢাকার সামগ্রিক নগরপরিকল্পনায় আধুনিকতা এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্মপরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

এমএন

বিজ্ঞাপন