দেশে ভ্যাট ও কর ফাঁকির সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আইসিএবি ও দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং ও রাজস্ব আহরণ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এছাড়া অনুষ্ঠানে দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, আইসিএবি কাউন্সিলের সদস্য সাব্বির আহমেদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আইসিএবি প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশের অর্থনীতির আকার দিনদিন বাড়ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার সম্ভবত ৯ লাখ কোটি টাকা হতে যাচ্ছে, যেখানে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে সরকারকে প্রত্যক্ষ কর থেকে রাজস্ব বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। তবে অর্থনীতিতে ভ্যাট ও কর ফাঁকির সংস্কৃতি চালু থাকলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় ম্যানুয়াল অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে।
এন কে এ মবিন বলেন, ম্যানুয়াল অ্যাকাউন্টিং ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ডিজিটাল অ্যাকাউন্টিং নির্ভুলতা ও রিয়েল-টাইম রিপোর্টিং নিশ্চিত করে। এনবিআর যদি ডিজিটাল অটোমেশনে যায় এবং চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টদের ডিভিএসের (ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম) যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে, তবে কর ফাঁকি ও কারসাজি অনেকাংশে কমে আসবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় আনার ওপর জোর দিয়ে আইসিএবি প্রেসিডেন্ট বলেন, এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল হিসাবরক্ষণে উৎসাহিত করলে করযোগ্য ভিত্তি আরও প্রসারিত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাজস্ব আহরণে সহায়ক হবে।
আরএম/এমএআর/
