সরকার এক শিক্ষক-এক ট্যাব, ফ্রি ইউনিফর্ম এবং আরও ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বর্তমানে আমাদের শিক্ষিত বেকার একটি বড় সমস্যা। এই তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট : কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রথম সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘শিক্ষা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থান’ শিরোনামে সেশনটি আয়েজিত হয়।
আলাউদ্দিন মোহাম্মদের সঞ্চালনায় এই সেশনে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন এবং সহ-সভাপতি হিসেবে ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম। সেশনে বিডিজবস ডট কমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফাহিম মাশরুর, বন্ডস্টেরিন ও সিঙ্গুলারিটি লিমিটের সহপ্রতিষ্ঠাতা মীর শাহরুখ ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা মালিক সমিতির সভাপতি আলী জামান ও যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হুসাইন বক্তব্য রাখেন।
ফাহিম মাশরুর বলেন, বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে বেকারত্ব ৫ শতাংশের কম; যা এক দৃষ্টিকোণ থেকে খারাপ নয়। কিন্তু মূল পার্থক্য হলো, আমাদের শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব। আমাদের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট পড়াশোনা শেষ করে ৩-৪ বছরের মধ্যে কোনো চাকরি পায় না। আমাদের বেকারত্বের প্রকৃতি কী? শিক্ষিত এবং তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বেশি। বাংলাদেশের প্রতিবছর চাকরির বাজারে ২০ লাখ লোক প্রবেশ করে; সেখানে ৭ লাখ লোক গ্র্যাজুয়েট। এটা আগে ২ লাখ ছিল, কিন্তু হাসিনা জেলা-উপজেলা পর্যায় কলেজ করে এটি বাড়িয়েছে, মার্কেটে যার চাহিদা নেই।
আলী জামান বলেন, সারাবছর তারা এসআরও তৈরি করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন নতুন ট্যাক্স বসায়। এনবিআর যে স্লোগান দেয়, তা কতটা বায়বীয় খেয়াল করুন। পরোক্ষ ট্যাক্স-ভ্যাটের পরিমাণ এখন কমে গেছে। সবাই এটি দিচ্ছে। এখানেই দ্বন্দ্ব বা দ্বিচারিতা সৃষ্টি হচ্ছে। যেকারণে মানুষ মনে করে ট্যাক্সের খাতায় নাম লেখানো মানেই গিলোটিনে মাথা দেওয়া। যে ট্যাক্স দিচ্ছে, তার ওপর নতুন ট্যাক্স আরোপ করা হচ্ছে। নতুন করদাতা সৃষ্টি হচ্ছে না।
সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, কর্মসংস্থানের বিষয়টি শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, এক বছর শিক্ষার পেছনে ব্যয় করলে ব্যক্তির আয় ৮-৯ ভাগ বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশে যুবকদের মধ্যে যোগ্যতা অনুযায়ী ৮৫ ভাগ লোক চাকরি পায় না। আমাদের বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির মাত্র ১.৬৯ ভাগ ব্যয় করা হয়েছে। যেখানে জাতিসংঘ ৬ ভাগ ব্যয় করতে বলে।
এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, কোনো নির্বাচিত সরকার শিক্ষা নিয়ে এত উদ্দীপনা আগে দেখায়নি। ডিজিপির ৫ ভাগ বাজেট করতে হবে। যেটা ডলারে ২৫ বিলিয়নে দাঁড়ায়। আমাদের এখনকার বাজেট ৮ বিলিয়ন ডলার। ধরুন, আমাদের হাতে টাকাটা এসেছে। এখন এই টাকা আমরা কীভাবে ব্যয় করব? সরকার ইতোমধ্যে তাদের নির্বাচনী ইশতিহারে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এক শিক্ষক-এক ট্যাব, ফ্রি ইউনিফর্ম দেওয়া, ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন। কিন্তু আমাদের শিক্ষাখাতের যে চ্যালেঞ্জ, উনাদের পলিসি এজেন্ডা সাজানো হয়নি।
তিনি বলেন, এখানে আমরা খরচ করার ক্ষেত্রে বিরাজতিকীকরণ করতে হবে। আমাদের যে ধরনের প্রমিজ করা হয়েছে যে, এক শিক্ষক-এক ট্যাব, ফ্রি ইউনিফর্ম, আরও ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন-এগুলোর কিন্তু কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নাই। আমাদের পঞ্চবার্ষিক মহাপরিকল্পনায় এ বছরকে বলা হয়েছে, স্ট্যাবিলাইজেশন অ্যান্ড রিকভারি। তো প্রশ্নটা হল শিক্ষাতে কীভাবে স্ট্যাবিলাইজেশন রিকভারি আমাদের দরকার? কারণ এ বছরের বাজেটটা হবে ২০৩৪ এর ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির ফাউন্ডেশন। ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির জন্য যেই মানব সম্পদ দরকার, তা এখান থেকে তৈরি হবে। আমাদের প্রায়োরিটি হওয়া উচিত প্রাথমিক ও আর্লি স্টেজের শিক্ষায় তাহলেই আমরা পরের ধাপে যেতে পারব।
এমএসআই/এসএম
