জনগণের আমানত, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার দাবিতে আগামী ৭ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও নাগরিক সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম।
শুক্রবার (৫ জুন) সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের এক বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। চার দশকেরও বেশি সময় আগে ইসলামী অর্থনীতির নীতিমালার আলোকে যে সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ দেশের কোটি মানুষের আস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে দেশের লক্ষাধিক আমানতকারী, হাজারো উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রবাসী এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষি অর্থায়ন, রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স আহরণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকিং কেবল একটি আর্থিক ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি নৈতিক অঙ্গীকার, যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাস্তব উৎপাদন, ব্যবসা, অংশীদারিত্ব এবং সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়। এ কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।
বিবৃতিতে জনগণের আমানতকে ‘পবিত্র আমানত’ উল্লেখ করে বলা হয়, মানুষের জীবনব্যাপী সঞ্চয়, সন্তানের শিক্ষা, পারিবারিক নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ এই আমানতের সঙ্গে জড়িত। তাই দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা জাতীয় দায়িত্ব।
দেশের আলেম-উলামা, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।
এমএসআই/এমএসএ
