বিজ্ঞাপন

ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০০ কোটি টাকার তহবিল, ঋণ মিলবে ৯% সুদে

ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০০ কোটি টাকার তহবিল, ঋণ মিলবে ৯% সুদে

কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ’ থেকে এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, শ্রমনিবিড় ও স্বল্প পুঁজি নির্ভর এই খাতে চাহিদার তুলনায় চলতি মূলধনের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় সিএমএসএমই খাতের বিকাশ ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতির চাকা গতিশীল করার উদ্দেশ্যে নতুন এই তহবিল গঠন করা হলো। এই তহবিল থেকে ঋণ বা বিনিয়োগ সরবরাহের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা পূর্ণ সক্ষমতায় তাদের উৎপাদন, সেবা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

উদ্যোক্তাদের জন্য গঠিত এই স্কিমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’। প্রাথমিকভাবে এই তহবিলের মেয়াদ হবে তিন বছর।

প্রচলিত ধারার ব্যাংকের পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংক কিংবা সাধারণ ব্যাংকের ইসলামিক বিভাগগুলোও নিজস্ব নিয়মে গ্রাহকদের এই ঋণ সুবিধা (বিনিয়োগ আকারে) দিতে পারবে। 

গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা এই ঋণ আদায়ের যাবতীয় দায়দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর। ঋণের ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকগুলো চাইলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকের কাছ থেকে সহ-জামানত বা কোলাটেরাল গ্রহণ করতে পারবে।

এই তহবিলের সুদের হার উদ্যোক্তা ও ব্যাংক উভয় পক্ষের জন্যই নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের আওতায় গ্রাহক বা উদ্যোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিলের অর্থ পাবে। ব্যাংকগুলোকে প্রতি তিন মাস (ত্রৈমাসিক) পরপর এই সুদ পরিশোধ করতে হবে।

কারা ঋণ পাবেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব সচল কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের অভাবে তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবসা বা উৎপাদন চালাতে পারছে না, মূলত তারাই এই তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন।

কোনো উদ্যোক্তা যদি আগে থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা ভোগ করে থাকেন, তারাও শর্তসাপেক্ষে এই তহবিল থেকে নতুন করে ঋণ নিতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো তাদের ঋণের প্রকৃত চাহিদা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ঋণ বরাদ্দ দিতে পারবে।

dhakapost

ঋণ পাবেন না খেলাপিরা

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) তালিকায় যদি কোনো উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত থাকে, তবে তারা এই তহবিলের আওতায় কোনোভাবেই ঋণ পাবেন না।

গ্রেস পিরিয়ড ও অতিরিক্ত ফি

ঋণ নেওয়ার পর তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় পাবেন উদ্যোক্তারা। অর্থাৎ, ঋণ নেওয়ার প্রথম তিন বা ছয় মাস কোনো কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ‘শিডিউল অব চার্জেস’ বা ফির বাইরে ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো চার্জ, ফি বা কমিশন আদায় করতে পারবে না।

ব্যাংকগুলোর জন্য শর্ত

সার্কুলার অনুযায়ী, দেশের সব বাণিজ্যিক বা তফসিলি ব্যাংক এই তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে গ্রাহকদের ঋণ দিতে পারবে। তবে, এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত দেওয়া হয়েছে; যেসব ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৭০ শতাংশের বেশি, তারা এই তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। তবে, কোনো ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া সর্বোচ্চ ঋণ-আমানত অনুপাতের সীমা অতিক্রম করতে পারবে না।

এই তহবিলের সুবিধা নিতে আগ্রহী তফসিলি ব্যাংকগুলোকে দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট’-এর পরিচালকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি (পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট) সই করতে হবে।

এসআই/এমএআর/