ব্যাংকিং চ্যানেলের পরিবর্তে শেয়ারবাজার থেকে বেসরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের যোগান দিতে চায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্যে এরই মধ্যে বিষয়টি বহুবার উচ্চারিত হয়েছে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খানের বক্তব্যেও বেসরকারি খাতের অর্থায়নে এই বাজারের গুরুত্ব বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে শেয়ারবাজারের গুরুত্ব বাড়াতে অর্থ সরবরাহের প্রাথমিক ধাপ তথা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) প্রক্রিয়াগত সংস্কারের কথাও বলেছেন তিনি।
সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইতিবাচক মনোনিবেশের পরও বাজার-অংশীজনরা মনে করছেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে যদি বিশেষ কোনো ছাড় পাওয়া না যায়, তাহলে এই বাজারে ভালো কোম্পানি আনা কষ্টকর হবে। এক্ষেত্রে বাজেটে করছাড়সহ দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিগুলো কী ধরনের সুবিধা পাবে, সেই রোডম্যাপ হওয়া উচিত বলে মনে করেন অনেকে। বিশ্লেষকরাও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করছাড় বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে করছাড় দিলে যেসব কোম্পানি কর ফাঁকি দিচ্ছে, সেগুলোও নিম্ন হারে কর দেওয়ার সুবিধা নিতে বাজারে আসতে উৎসাহী হবে। ফলে সার্বিকভাবে সরকারের কর আদায় বাড়বে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট (২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট) উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই বাজেটে নীতিগত ছাড় চেয়ে এরই মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণির অংশীজনদের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো হলো— তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত করপোরেট করহারের ব্যবধান বাড়ানো, আইপিও পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য বিশেষ ছাড়, দ্বৈত কর প্রত্যাহার, মূলধনী মুনাফার ওপর কর প্রত্যাহার এবং এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য কোম্পানিগুলোকে সম্পূর্ণরূপে কর অব্যাহতি দেওয়া অন্যতম।
ডিএসইর প্রস্তাবনায় যা আছে?
শেয়ারবাজারের বড় অংশীজন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ লেনদেন হতে কোনো অনাবাসী ব্যক্তি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অর্জিত মূলধনী মুনাফার ওপর করকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে মূলধনী মুনাফার ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর কর্তন করা হয়।
ব্যক্তি শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটি লেনদেন হতে অর্জিত মূলধনী আয়ের ওপর কর ষষ্ঠ তফসিল অংশ- ১ (৩৬) বর্ণিত অনধিক ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অব্যাহতিসহ ৫০ লাখ ঊর্ধ্ব মূলধনী আয়ের ওপর উৎসে কর (টিডিএস) হার ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া, এক্সচেঞ্জটির পক্ষ থেকে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অথবা মিউচুয়াল ফান্ড বা ইউনিট ফান্ডে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে করকে (টিডিএস) চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করার জন্য প্রস্তাব করা হয়। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, শেয়ারহোল্ডার কোনো কোম্পানি হলে এই টিডিএস ২০ শতাংশ হারে, আর শেয়ারহোল্ডার ব্যক্তি হলে টিআইএন নম্বরধারীর ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং টিআইএন নম্বরধারী না হলে ১০ শতাংশ হারে কর কর্তন করা হয়।
ডিএসই বিনিয়োগ কর রেয়াতের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনিট সার্টিফিকেট, ইটিএফ বা যৌথ বিনিয়োগ স্কিমে বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ না করে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করেছে। এক্সচেঞ্জটি কোম্পানির অন্যান্য উৎসের আয়ের বিপরীতে ব্যবসায়িক ক্ষতি সমন্বয় করার বিধান পুনঃপ্রবর্তনের প্রস্তাব করেছে। বর্তমান বিধান অনুযায়ী আয়ের অন্যান্য উৎসের সঙ্গে ব্যবসায়িক ক্ষতি সমন্বয়ের সুযোগ রহিত রয়েছে।
এর বাইরে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য সম্পূর্ণরূপে কর অব্যাহতির সুযোগ প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে এসএমই বোর্ডের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকেও ২০ শতাংশ হারে কর প্রদান করতে হয়।
তালিকাভুক্তির সংখ্যা বাড়াতে সিএসইর প্রস্তাব
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়াতে অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পক্ষ থেকেও কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এক্সচেঞ্জটির প্রস্তাবগুলোর মধ্যে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর হারের ব্যবধান বাড়ানো অন্যতম। এক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জটি কোনো প্রকার শর্ত ছাড়া তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ন্যূনতম ১০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবধান রাখার প্রস্তাব করেছে। ধীরে ধীরে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার কমিয়ে আনা এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার বৃদ্ধির মাধ্যমে এ কর ব্যবধান বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে শেয়ারবাজারে অধিক পরিমাণ করপোরেট প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে বলে মনে করছে স্টক এক্সচেঞ্জটি।
এছাড়া, এক্সচেঞ্জটির পক্ষ থেকে লভ্যাংশ করের ওপর দ্বৈত করের বিধান প্রত্যাহার করে লভ্যাংশ আয়কে করমুক্ত ঘোষণা করা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে মূলধনী লাভের কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্বৈত কর পরিহার চুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে ডিবিএ’র ৭ প্রস্তাব
শেয়ারবাজারের অন্যতম অংশীজন ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) পক্ষ থেকে এনবিআরে সাতটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের ওপর উৎসে করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর কাটার পর আবার আয়কর রিটার্নে কর দিতে হয়। এতে কার্যকর করহার অনেক ক্ষেত্রে ৪০ দশমিক ৫০ শতাংশে পৌঁছে যায়, যা কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় নিরুৎসাহিত করে।
এছাড়া, সংগঠনটির পক্ষ থেকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কর রেয়াতের সীমা তুলে দেওয়া; মিউচুয়াল ফান্ড, সরকারি সিকিউরিটিজ ও অন্যান্য সিকিউরিটিজকে নিয়মিত করহারের বাইরে রাখা; শেয়ার লেনদেনের ওপর কাটা উৎসে করকে (টিডিএস) মিনিমাম ট্যাক্স না ধরে অ্যাডভান্স ট্যাক্স হিসেবে গণ্য করা; লোকসানগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্টে করছাড় দেওয়া; ‘ডিমড-টু-বি লিস্টেড কোম্পানি’ কাঠামো চালু এবং তিন বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) কিংবা লভ্যাংশ ঘোষণায় ব্যর্থ কোম্পানির জন্য অতালিকাভুক্ত কোম্পানির হারে কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ডিবিএ মনে করে, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। এছাড়া, টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রস্তাবগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। সর্বোপরি এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা ও গভীরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করবে এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তক হবে।
বিএমবিএ’র প্রস্তাবগুলোতে যা আছে
শেয়ারবাজারের মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাঙ্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) পক্ষ থেকেও বেশকিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী অর্থবছরে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার কমিয়ে ১৮ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য প্রথম পাঁচ বছর করপোরেট করহার ১৫ শতাংশ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আইপিও উৎসাহিত করতে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে অন্যান্য করহারের ক্ষেত্রে প্রথম তিন বছর ৫০ শতাংশ ছাড় এবং পরবর্তী দুই বছর ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া যেতে পারে। তবে, এ সুবিধা পেতে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ছাড়ার শর্ত দেওয়া যেতে পারে।
সংগঠনটির প্রস্তাবনায় বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকেও তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্যে লভ্যাংশে উৎসে কর কমানো ও করপোরেট কর সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের জন্য মূলধনী মুনাফার ওপর কর সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছে বিএমবিএ। বর্তমানে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত থাকলেও সংগঠনটির প্রস্তাবে তা পুরোপুরি করমুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। আর করপোরেট বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে মূলধনী মুনাফার ওপর কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে কোম্পানির নিট মুনাফার ৭০ শতাংশ ধরে রাখলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। এই নিয়ম বাতিলের প্রস্তাব করেছে বিএমবিএ। সংগঠনটির মতে, এতে কোম্পানির ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া, বোনাস লভ্যাংশ নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর আরোপের নিয়ম বাতিল চাওয়া হয়েছে। আর ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত করা এবং এর বেশি হলে উৎসে করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিএমবিএ মনে করছে, বাজেটে এসব প্রণোদনা বাস্তবায়ন করা হলে বড় ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়বে ও বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার অর্থনীতির বড় অর্থায়নের উৎসে পরিণত হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাব
শেয়ারবাজার অংশীজনদের পাশাপাশি এই বাজারের পরিধি বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর পক্ষ থেকেও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংগঠনটির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার (টিডিএস) কমিয়ে পূর্বের ন্যায় ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা উচিত। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে।
ঢাকা চেম্বার মনে করে, যদি উৎসে কর্তিত কর নির্ধারিত চূড়ান্ত কর দায় অপেক্ষা অধিক হয়, তাহলে করদাতার ইচ্ছানুযায়ী পরবর্তী করবর্ষে ক্যারি-ফরোয়ার্ড করে সমন্বয় করা অথবা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (সর্বোচ্চ ৯০ দিন) রিফান্ড গ্রহণের সুবিধা রাখা উচিত। তবে, একই অর্থের ক্ষেত্রে উভয় সুবিধা গ্রহণযোগ্য হবে না। এনবিআরকে শেয়ারবাজারের স্বার্থে টিডিএস সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুপারিশ জানায় সংগঠনটি।
বিশ্লেষক ও বাজার সংশ্লিষ্টরা কী বলছেন?
এ বিষয়ে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। এক্ষেত্রে করছাড় ব্যতীত আরও কিছু নীতি সহায়তার প্রয়োজন পড়বে। ব্যাংকিং খাত থেকে যদি তারা বড় অঙ্কের ঋণ নিতে পারে, তাহলে তারা মালিকানার একটি অংশ অন্যের হাতে দেবে কেন? এই জায়গাগুলোতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে কোম্পানিগুলোর করহার কমিয়ে যদি ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা যায়, সেটি হয়তো সরকারের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ভালো কর আদায়ে সহায়তা করতে পারে। তবে, শুধুমাত্র করছাড় দিলেই যে ভালো কোম্পানি আসবে, বিষয়টি তা নয়। ভালো কোম্পানি আনতে আরও কিছু নীতিগত ছাড় দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বহির্বিশ্বে কোম্পানিগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল (কার্যকরী মূলধন) প্রয়োজন হলে সেটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়। শুধুমাত্র দীর্ঘমেয়াদি যে বিনিয়োগের প্রয়োজন, সেটি শেয়ারবাজার থেকে নেওয়া হয়। আমাদের দেশেও এমন পলিসি তৈরি করতে হবে যাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ শেয়ারবাজারের মাধ্যমে হয়। এক্ষেত্রে সরকারকে নীতি সহায়তা দিয়েই শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহ দিতে হবে। তবে, মনে রাখতে হবে যে কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসবে নাকি আসবে না, এটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব বিষয়। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার জোর প্রয়োগ করে বাজারে আনা ঠিক হবে না।
এ বিষয়ে ডিএসই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী বলেন, আমরা শেয়ারবাজারের জন্য অনুদান চাই না, সরকারের নীতিগত সহায়তা চাই। নীতি সহায়তা না থাকলে বাজারে ভালো আইপিও আসবে না। আইপিও আনতে গেলে এর পেছনে যে ছাড় দিতে হবে, সেগুলো আগে ঠিক করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে নীতিগত ছাড় ব্যতীত ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনার পথ কঠিন।
এমএমএইচ/এমএআর/
