রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাতের ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চুক্তির বাইরে নগদ অর্থ, ফ্ল্যাট, জমি বা অন্য কোনো সুবিধা গ্রহণ করলে তা এখন থেকে করযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমন কঠোর নিয়ম অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে পাওয়া তথ্যানুসারে, কোনো নির্ধারিত চুক্তির (Specified Agreement) অধীনে কিংবা চুক্তির বাইরে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভূমি মালিক যদি কোনো নগদ অর্থ, ফ্ল্যাট বা অন্যান্য সুবিধা পান, তবে তার আর্থিক মূল্য সরাসরি ভূমি মালিকের মূলধনী প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে। ফলস্বরূপ, এর ওপর প্রযোজ্য হারে কর দিতে হবে।
সূত্র আরও জানায়, করযোগ্য মূলধনী মুনাফা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ভূমি মালিকের প্রাপ্ত মোট সুবিধার আর্থিক মূল্য থেকে সংশ্লিষ্ট জমি, বাড়ি, স্থাপনা বা ফ্ল্যাটের প্রকৃত অর্জনমূল্য (Acquisition Cost) বাদ দেওয়া হবে। এই বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট যে অংশ থাকবে, সেটিই করযোগ্য মূলধনী মুনাফা হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চুক্তিতে উল্লেখিত সুবিধার বাইরে অতিরিক্ত ফ্ল্যাট, নগদ টাকা বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে তা আর কর জালের বাইরে রাখার সুযোগ থাকবে না।
পাশাপাশি, আবাসন খাতের ডেভেলপার কোম্পানিগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মানদণ্ড অনুসারে রাজস্ব ও ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, এই নতুন ব্যবস্থা আবাসন খাতে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা দূর করে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং কর ফাঁকি প্রতিরোধে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তারা মনে করছেন, নতুন এই নির্দেশনার ফলে ভূমি মালিক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি এবং চুক্তিবহির্ভূত সুবিধা— উভয় ক্ষেত্রেই করের হিসাব আরও স্পষ্ট হবে এবং আর্থিক লেনদেনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
আরএম/এমএআর
