অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে শুধু আইটি ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর কর অব্যাহতি আছে। এই কর অব্যাহতি সুবিধা অন্যান্য সকল প্রকার ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করার প্রস্তাব করছি। এর ফলে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের আয় বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে উৎসাহিত হবেন।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ যোগাতে সকল ধরনের কন্টেন্ট ক্রিয়েশন হতে আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব করছি। তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে স্টার্ট-আপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার এবং নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার হতে অর্জিত আয় করমুক্ত করার প্রস্তাব করছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে যেকোনো উৎপাদনমুখী শিল্প, পর্যটন বা ক্রীড়াক্ষেত্রের স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির বিনিয়োগের ওপর প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ হারে ত্বরান্বিত অবচয় সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করছি। এ ছাড়া, করদাতাদের দাতব্য ও জনকল্যাণমূলক কাজে দান করাকে উৎসাহ দিতে কর রেয়াত দেওয়ার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, প্রতিবন্ধী সেবা, ক্যান্সার, অটিজম, ডায়াবেটিস, থ্যালাসেমিয়া ও সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের তালিকা অনুমোদনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য করের হার বৃদ্ধি নয় বরং করের ভিত্তি সম্প্রসারণ। এই উদ্দেশ্যে কয়েকটি বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। করভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শুন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করছি। খুচরা বিক্রেতাদের নিকট থেকে সংগৃহিত এ অগ্রিম করের পরিমাণ হবে অতি নগণ্য, প্রতি ১ হাজার টাকায় মাত্র ২ টাকা। তাছাড়া, অগ্রিম সংগৃহীত এ আয়কর করদাতার প্রদেয় করের সাথে সমন্বয় হবে। স্টুডেন্ট একাউন্ট, নো-ফ্রিলস একাউন্ট ও বোর্ড কর্তৃক গেজেট দ্বারা টিআইএন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা হতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত, অন্য যেকোনো ব্যক্তি, ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ দাখিল করার বিধানের প্রস্তাব করছি।
পাশাপাশি সেন্ট্রাল ডাটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এনবিআরের তথ্যভাণ্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করে তথ্য দেওয়া-নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক— দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।
এ ছাড়া, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এ ছাড়া, বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানান।
এএসএস/এসএএস/এনএফ
