দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে আমদানির বিপরীতে আগাম অর্থ পরিশোধের নিয়মে শিথিলতা এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিদেশি ব্যাংকের রিপেমেন্ট গ্যারান্টি ছাড়াই আমদানিকারকরা বিদেশে অগ্রিম অর্থ পাঠাতে পারবেন। পাশাপাশি এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) নির্ভরতার বাইরে বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থার ব্যবহারও উৎসাহিত করা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বিদেশি ব্যাংকের রিপেমেন্ট গ্যারান্টি থাকলে আমদানির বিপরীতে যেকোনো পরিমাণ আগাম অর্থ পরিশোধ করা যাবে। তবে নতুন নিয়মে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো সাধারণ অনুমোদনের আওতায় সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে অগ্রিম পাঠাতে পারবে, যার জন্য কোনো বিদেশি ব্যাংকের গ্যারান্টি প্রয়োজন হবে না। এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইকিউআর) হিসাব থেকে এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ বিদেশি ব্যাংকের গ্যারান্টি ছাড়া অগ্রিম পাঠাতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো অফিস চলাকালীন সময়ে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে। পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এলসি এখনও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও বিশ্বজুড়ে ওপেন অ্যাকাউন্ট ট্রেড, ডকুমেন্টারি কালেকশন, সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স এবং ফ্যাক্টরিংয়ের মতো বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এ বাস্তবতায় দেশের ব্যাংকিং খাতেও এসব পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় রপ্তানিকারকদের ওপেন অ্যাকাউন্ট ভিত্তিতে পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডকুমেন্টারি কালেকশন পদ্ধতিতে আমদানি-রপ্তানি লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে রিভার্স ফ্যাক্টরিং, সাপ্লায়ার ফাইন্যান্সিং এবং বায়ার ফাইন্যান্সিংয়ের মতো সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স সুবিধা চালুর জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।
বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল ট্রেড প্রসেসিং এবং ইলেকট্রনিক নথি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে একই সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওএফএ/আরএফ/এনএফ
