অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্মাণ, পরিবেশ, স্থানীয় অনুমোদন ও প্রতিপালন সহজীকরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি সেবাগুলো সহজ ও সমন্বিত করতে আমরা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনে তিনি এ কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, শিল্পকারখানার স্থান নির্বাচনসংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদন অনলাইনে গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশ, ভূমি ও নকশা অনুমোদনের জন্য সমন্বিত সিঙ্গেল উইনডো সিস্টেম চালু করা হবে। এতে একই প্রকল্পে পৃথক পৃথক আবেদন ও বারবার পরিদর্শনের প্রয়োজন কমবে। অনুমোদন ও যাচাই প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা জারিপূর্বক ঝুঁকি মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হবে। ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নপূর্বক সহজ প্রতিপালন কাঠামো প্রবর্তন করা হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতের ছোট উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনার সুবিধা তাদের জন্য প্রযোজ্য লাইসেন্স গ্রহণ, নবায়ন ও নিয়মিত প্রতিপালনের শর্ত সহজ করা হবে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।
এছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হচ্ছে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।
নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানান। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।
এএসএস/এমএন
