ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আপিল, ট্রাইব্যুনাল এবং হাইকোর্টে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে জমা করা করের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কর কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বিশেষ ক্ষমতা (ডিসক্রিশনারি পাওয়ার) বিলোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় এ প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেন করদাতারা আরও সহজে সেবা পেতে পারেন এবং কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে আয়কর রিটার্নের মতো অনলাইনে ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হবে। ক্ষুদ্র ভ্যাটদাতাদের জন্য সহজতর পৃথক ভ্যাট রিটার্ন ফরম চালুরও প্রস্তাব করা হয়েছে, যেন অল্প কিছু তথ্য দিয়েই অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারেন তারা।
অর্থমন্ত্রী জানান, ই-ভ্যাট সিস্টেমে আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) দেওয়ার লক্ষ্যে আইন সংশোধন করা হবে। একইসঙ্গে মাসিক রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে প্রতি তিন মাসে একবার বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রিটার্ন দাখিলের বিধান চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে এবারের বাজেটে।
তিনি বলেন, আপিল, ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্টে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে পরিমাণ কর জমা দিতে হয়, তা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হবে। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত বিষয়ে কর কর্মকর্তাদের ডিসক্রিশনারি পাওয়ার বা বিশেষ বিবেচনাধীন ক্ষমতা বিলোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আমির খসরু বলেন, যেসব করদাতা নিজস্ব ইআরপি সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, তারা যেন নিজস্ব সফটওয়্যার থেকেই এক ক্লিকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।
এমআরআর/এসএম
